সারাদিন ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করবেন যেভাবে
সকাল শুরু হয় ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে অফিস, ক্লাস কিংবা সংসারের কাজ। এরপর একের পর এক দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে কখন যে দিন শেষ হয়ে যায়, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। দিনের শেষে নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে হলেও তখন শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত।
ব্যস্ত জীবন থেকে দায়িত্ব পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা জরুরি। এর জন্য আলাদা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় বের করারও প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট কিছু অভ্যাস দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।
দিনের শুরুতেই নিজের জন্য কিছু সময়
ঘুম থেকে উঠেই দিনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখা যেতে পারে। এক কাপ চা বা কফি নিয়ে শান্তভাবে বসা, পছন্দের গান শোনা কিংবা কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকা—যেকোনো কিছুই হতে পারে এই সময়ের অংশ।
এই কয়েক মিনিট দিনের ব্যস্ততার আগে নিজের সঙ্গে থাকার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা নয়
অনেক সময় নিজের জন্য সময় না পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা। দিনের সব কাজ একসঙ্গে মাথায় রাখলে চাপও বাড়ে।
তাই দিনের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আলাদা করে নেওয়া যেতে পারে। কোন কাজটি আগে করতে হবে আর কোনটি পরে করা যাবে, সেটি ঠিক করে নিলে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কিছুটা কমানো সম্ভব।
ফোন থেকে কিছুটা দূরে থাকা
দিনের বড় একটি অংশ এখন ফোনের সঙ্গে কাটে। কাজের প্রয়োজনে ফোন ব্যবহার করলেও অবসর সময়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন অ্যাপে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভ্যাস রয়েছে অনেকের।
নিজের জন্য সময় বের করতে চাইলে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকা যেতে পারে। সেই সময়টুকু বই পড়া, হাঁটা, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।
পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখুন
নিজের যত্ন মানেই সবসময় ব্যায়াম বা স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। যে কাজটি করতে ভালো লাগে, সেটির জন্য সময় রাখাও নিজের যত্নের অংশ।
কেউ বই পড়তে ভালোবাসেন, কেউ রান্না করতে, কেউ ছবি আঁকতে বা গান শুনতে। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট পছন্দের কাজে সময় দেওয়া মনকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি
একটানা কাজ করে যাওয়ার বদলে মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ডেস্কে কাজ করেন, তারা কাজের ফাঁকে উঠে একটু হাঁটতে পারেন, পানি পান করতে পারেন কিংবা কয়েক মিনিট চোখকে বিশ্রাম দিতে পারেন।
ছোট এই বিরতিগুলো কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়া নয়। বরং আবার নতুন করে কাজে মন দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
নিজের জন্য সময় মানেই একা থাকা নয়
অনেকেই মনে করেন নিজের জন্য সময় মানে একা কোথাও বসে থাকা। আসলে তা নয়। পরিবারের সঙ্গে গল্প করা, বন্ধুর সঙ্গে দেখা করা কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও নিজের জন্য সময় হতে পারে।
মূল বিষয় হলো, সেই সময়টুকু যেন শুধু দায়িত্ব পালনের জন্য না হয়ে নিজের ভালো লাগার জন্য হয়।
সবসময় ব্যস্ত থাকাটাই সাফল্য নয়
ব্যস্ত থাকা আর productive থাকা এক বিষয় নয়। সারাদিন কাজের মধ্যে থাকলেও যদি বিশ্রাম বা নিজের জন্য কোনো সময় না থাকে, তাহলে একসময় ক্লান্তি জমতে পারে।
তাই দিনের কাজের পাশাপাশি নিজের জন্যও ছোট একটি জায়গা রাখা দরকার। প্রতিদিন হয়তো এক ঘণ্টা সময় পাওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু ১৫-২০ মিনিটও যদি নিয়মিত নিজের পছন্দের কোনো কাজে দেওয়া যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের জন্য সময় বের করতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। দিনের কাজের তালিকা একটু গুছিয়ে নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার কমানো, কাজের মাঝে ছোট বিরতি নেওয়া এবং পছন্দের কাজের জন্য কিছুটা সময় রাখা—এসব ছোট পরিবর্তন দিয়েই শুরু করা যায়।
ব্যস্ত জীবন থেমে থাকবে না। তবে সেই ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা গেলে দিনশেষে শুধু কাজের হিসাব নয়, নিজের ভালো থাকার দিকেও নজর দেওয়া সম্ভব।
What's Your Reaction?