শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান দেবে সরকার

Sep 19, 2026 - 11:50
Sep 19, 2026 - 13:09
 0  6
শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান দেবে সরকার

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান দেবে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুদানের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর প্রান্তের অনলাইন আবেদন করা যাবে আগামী ৩১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুযায়ী এ অনুদান দেওয়া হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীকে ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী চিকিৎসার মেয়াদে একবার এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর অথবা তার আগের এক বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে মেধাবী ও অসচ্ছল হওয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। আগের শ্রেণিতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ শর্ত পূরণ করবেন। এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৪-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩ দশমিক ০০ পাওয়ার প্রমাণপত্রও দিতে হবে।

সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে পিতা, মাতা বা অভিভাবকের বেতন গ্রেডের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধানের কাছ থেকে এ প্রত্যয়ন নিতে হবে। অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দেওয়া পিতা, মাতা বা অভিভাবক দরিদ্র—এমন প্রত্যয়নপত্রের কপি জমা দিতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে পিতা, মাতা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসা সনদও দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন বা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়ন করা চিকিৎসা সনদের কপি অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

আবেদন পুরোপুরি অনলাইনে হওয়ায় এর কোনো হার্ড কপি ট্রাস্টে পাঠাতে হবে না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন, পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্পষ্ট কপি অনলাইনে দিতে হবে। এসব তথ্য বা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনে শিক্ষার্থী অথবা পিতা-মাতার নিজস্ব অনলাইন ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ নম্বর ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের ভেতরের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্যও আপলোড করতে হবে। অন্য কারও ব্যাংক হিসাব গ্রহণ করা হবে না। তবে পিতা-মাতার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থী পুরোপুরি যার ওপর নির্ভরশীল, সেই অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব দেওয়া যাবে।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিক ও সচল হতে হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল হিসাব নম্বরের কারণে অনুদানের অর্থ ব্যাংক থেকে ফেরত এলে তা পুনরায় পাঠানো হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আবেদনের সময় ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া না গেলে প্রতিষ্ঠানটি সিস্টেমে যুক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা বিভাগীয় প্রধানকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্যাডে ইআইআইএনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, বাড়ি নম্বর ৪৪, সড়ক নম্বর ১২/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ ঠিকানায় ডাকযোগে আবেদন করতে হবে। এছাড়া ad.stipend@pmeat.gov.bd ই-মেইলেও আবেদন পাঠানো যাবে।

অনলাইনে আবেদন করা যাবে ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (https://www.eservice.pmeat.gov.bd/medical?utm_source=chatgpt.com)। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ফিচার Vision: বাংলা ভাষায় গভীর অনুসন্ধান, দীর্ঘ আকারের সাংবাদিকতা, মানবিক গল্প এবং বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য Narrative Journalism Platform হওয়া; যা সময়, সমাজ এবং মানুষের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: সমসাময়িক ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং পরিবর্তনকে গভীর গবেষণা, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার, তথ্য, ইতিহাস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করা; যাতে পাঠক কেবল ঘটনা জানতে না পারেন, বরং সেই ঘটনার মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে পারেন।