রানা প্লাজা মামলায় যুক্তিতর্কের নতুন তারিখ ২৮ অক্টোবর

Oct 6, 2026 - 14:30
Oct 6, 2026 - 14:30
 0  2
রানা প্লাজা মামলায় যুক্তিতর্কের নতুন তারিখ ২৮ অক্টোবর

সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন পিছিয়েছে।উপস্থাপনের নতুন তারিখ আগামী ২৮ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য ছিল।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।

ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম নতুন এ দিন ধার্য করেন। 

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা না করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রায়ের পর্যায় থেকে মামলাটি উত্তোলন করেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেওয়া হয়।


মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।


আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন এবং এদিন আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রথমে তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। পরে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার ভূমিকার বিষয়টি উঠে এলে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভবনটির ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়। ভবনটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত হলেও পরে সেখানে পাঁচটি গার্মেন্ট কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।


 
২০১৭ সালের ২১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। পরে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ৮৪৪টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ২৯১টি অশনাক্ত মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

দুর্ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ভবন মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।