রাজকীয় রূপচর্চার গোপন রহস্য, আজও জনপ্রিয় মধ্যপ্রাচ্যের ৫ প্রসাধনী
রূপচর্চার জন্য দামি ক্রিম, সিরাম আর নানা প্রসাধনীতে ভরে গেছে বাজার। অথচ সৌন্দর্য ধরে রাখতে একসময় ভরসা ছিল মাটি, দুধ, গোলাপ, হেনা কিংবা খেজুরের মতো একেবারে পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদান! মধ্যপ্রাচ্যের নারীদের সেই প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চার কিছু পদ্ধতি সময় পেরিয়েও হারিয়ে যায়নি। বরং আজও নানা উপায়ে ব্যবহার করা হয় এসব উপাদান।
১. কাদামাটি ও হলুদের প্রলেপ
প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্নে কাদামাটি ও হলুদের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এই ফেসপ্যাক অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে এবং ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করতে পারে। কাদামাটির পরিবর্তে মুলতানি মাটিও ব্যবহার করা যায়।
২. দুধ-গোলাপের ‘বডি সোক’
দুধের সঙ্গে গোলাপের পাপড়ির নির্যাস মিশিয়ে গোসল করার প্রচলন বহু পুরোনো। একসময় রাজকীয় সৌন্দর্যচর্চার অংশ ছিল এটি। দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে কোমল করতে সাহায্য করে, আর গোলাপের সুগন্ধ এনে দেয় প্রশান্তির অনুভূতি। ঘরেও দুধ ও গোলাপের পাপড়ি ব্যবহার করে এ ধরনের বডি সোক তৈরি করা যায়।
৩. জবা ও হেনার হেয়ার মাস্ক
হেনা বা মেহেদির সঙ্গে জবা ফুল বেটে মিশিয়ে চুলে লাগানোর রীতি অনেক পুরোনো। এই হেয়ার মাস্ক চুলকে কন্ডিশন করতে, উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং চুলকে স্বাস্থ্যবান দেখাতে সাহায্য করতে পারে। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ চুলে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
৪. ঠোঁটের যত্নে খেজুরের রস
প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে খেজুরের রস ঠোঁটে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। অল্প পরিমাণ রস ঠোঁটে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে শুষ্কতা কমতে এবং ঠোঁট নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৫. অবাঞ্ছিত রোম তুলতে চিনির ‘হালাওয়া’
চিনি, লেবুর রস ও পানি দিয়ে তৈরি মিশ্রণ দিয়ে অবাঞ্ছিত রোম তোলার পদ্ধতিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘হালাওয়া’ বলা হয়। এটি মূলত সুগারিং পদ্ধতির একটি রূপ। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে, তাই ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
সময় বদলেছে, বদলেছে সৌন্দর্যচর্চার ধরনও। তবু প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া কিছু উপাদানের ব্যবহার আজও টিকে আছে। তবে প্রাকৃতিক হলেই যে সবার ত্বকে নিরাপদ—এমন নয়; ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন ও সম্ভাব্য অ্যালার্জির বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।
What's Your Reaction?