বড় দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির করছেন: ববি হাজ্জাজ

Oct 13, 2026 - 09:30
 0  1
বড় দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর তদবির করছেন: ববি হাজ্জাজ

দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কমানোর জন্য তদবির করছেন বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোবটিকসের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের পশ্চাৎমুখী আলোচনা ওঠায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতারা মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কতটা কমানো যায়, তা নিয়ে দেনদরবার ও তদবির করছেন। এ বিষয়ে তাদের এমন অবস্থানের পেছনে কী যুক্তি রয়েছে, তা জ্ঞানভিত্তিকভাবে সমাজের সামনে স্পষ্ট করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি উন্নয়ন সহযোগী ও গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব জনগণকে প্রকৃত তথ্য জানানো।

প্রাচীন সভ্যতার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার তুলনা টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চার হাজার বছর আগের মিসর কিংবা আড়াই হাজার বছর আগের গ্রিসের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর বাস্তবতা কোনোভাবেই মেলে না। ২০২৬ সালের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে এসেও মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর মতো বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হওয়া হতাশাজনক।

নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন কেবল পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীর আত্মবিশ্বাস তৈরি, যোগাযোগদক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকারসচেতনতা এবং সর্বোপরি পরিবার ও সমাজের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সমানভাবে জরুরি।

বাল্যবিয়ে রোধে পারিবারিক নিরাপত্তার শঙ্কা, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো মূল সংকটগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা প্রান্তিক কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা গেলে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ন্যাশনাল ভিশন: বাংলাদেশের জাতীয় জনজীবন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও জ্ঞানকেন্দ্র হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় ঘটনাপ্রবাহের প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: রাজধানী, মন্ত্রণালয়, সংসদ, আদালত, নির্বাচন, জনসেবা এবং নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি দ্রুত, নির্ভুল, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।