বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ: কৌটার দুধ নয়, শিশুর জন্য মায়ের দুধই সেরা
১ থেকে ৭ আগস্ট পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। এ উপলক্ষে শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে দুধ না পাওয়া বা বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক পরিবার দ্রুত কৌটার দুধের ওপর নির্ভর করেন। এতে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমীনা বেগম বলেন, প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এতে শিশুর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাওয়া যায়। এ সময়ে শিশুর অন্য কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না।
তিনি বলেন, অনেক সময় শিশু মায়ের দুধ মুখে নিতে চায় না। আবার কোনো কোনো মায়ের স্তনের বোঁটা ফেটে যাওয়ায় দুধ খাওয়াতে সমস্যা হয়। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে শিশুকে সঠিকভাবে কোলে নেওয়া এবং দুধ খাওয়ানোর নিয়ম জানা জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে ‘পজিশন অ্যান্ড অ্যাটাচমেন্ট’ বলা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মাথা মায়ের কনুইয়ের ওপর থাকবে এবং পুরো শরীর মায়ের দিকে থাকবে। শিশুর থুতনি স্তনের সঙ্গে লাগানো থাকবে। অন্য হাত দিয়ে মা স্তন ধরে শিশুকে দুধ খাওয়াবেন। এতে শিশু ভালোভাবে দুধ পাবে এবং মায়েরও কষ্ট কম হবে।
ডা. তাহমীনা বলেন, জন্মের পর অনেক শিশু দীর্ঘ সময় ঘুমায়, যা স্বাভাবিক। এ কারণে ঘুম থেকে জোর করে তুলে দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। শিশু নিজে জেগে উঠে হাত-পা নাড়ালে বা মুখে আঙুল দিলে তখন তাকে দুধ খাওয়াতে হবে।
অনেক মা-বাবা মনে করেন, শিশু বেশি কান্না করলে হয়তো সে পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না। তবে চিকিৎসক বলেন, ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ছয়বার প্রস্রাব করলে ধরে নেওয়া যায়, শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। অন্য কোনো কারণেও শিশু কান্না করতে পারে।
মায়ের দুধ খাওয়ার পর শিশুর বারবার পাতলা পায়খানা হলেও দুধ সহ্য হচ্ছে না- এমনটি মনে করার কারণ নেই। চিকিৎসক জানান, মায়ের দুধে থাকা ল্যাকটোজের কারণে শিশুর এমন পায়খানা হতে পারে এবং এটি স্বাভাবিক।
অনেক মা দুধ বের করে বোতলে ভরে শিশুকে খাওয়ান। এ বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, বোতলে অভ্যস্ত হয়ে গেলে শিশু পরবর্তী সময়ে সরাসরি বুকের দুধ খেতে না চাইতে পারে। প্রয়োজন হলে মায়ের দুধ বের করে কাপে রেখে খাওয়ানো যেতে পারে। তিনি জানান, বাইরে রাখা দুধ ছয় ঘণ্টা এবং ফ্রিজে রাখা দুধ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, শিশুকে আলাদা ঘরে না রেখে মায়ের সঙ্গে একই ঘরে ও একই বিছানায় রাখা ভালো। এতে শিশু প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ খেতে পারে। পাশাপাশি মায়ের কাছাকাছি থাকলে শিশুর বেড়ে ওঠাও ভালো হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো এবং মাকে দুধ খাওয়ানোর সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। এজন্য পরিবার ও সমাজের সবাইকে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
What's Your Reaction?