বিশ্ব পর্যটন দিবসে ঘুরে আসুন দেশের এই ৫ ঠিকানায়

Sep 27, 2026 - 17:54
 0  4
বিশ্ব পর্যটন দিবসে ঘুরে আসুন দেশের এই ৫ ঠিকানায়

বর্ষার সবুজ এখনো পুরোপুরি ফিকে হয়নি, আবার শরতের নীল আকাশও জানান দিচ্ছে ঋতু বদলের। এমন সময়ে একটু ঘুরে আসতে ইচ্ছে করতেই পারে। আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। তাই কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে দেশের কোনো সুন্দর জায়গায় ছোট্ট ভ্রমণের পরিকল্পনা করতেই পারেন। তবে সেপ্টেম্বরের শেষেও বৃষ্টি থাকতে পারে, তাই কোথাও যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া জরুরি।এই সময়ে ঘুরে আসতে পারেন এমন ৫টি গন্তব্য থাকল তালিকায়।

১. শ্রীমঙ্গল

চা-বাগানের সবুজ, পাহাড়ি টিলা আর শান্ত পরিবেশের জন্য শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় চায়ের শহর। বর্ষার শেষে এখানকার প্রকৃতি আরও সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে। চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটা, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সবুজ পরিবেশ উপভোগ করা কিংবা মাধবপুর লেকের সৌন্দর্য দেখা,সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল হতে পারে স্বস্তির একটি ভ্রমণ।

যারা খুব বেশি ব্যস্ততা বা ভিড়ের মধ্যে না গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য দুই-তিন দিনের ছোট ভ্রমণে শ্রীমঙ্গল বেশ উপযোগী। চা-বাগানের সবুজের মাঝে বসে এক কাপ চা দিয়ে ভ্রমণের ক্লান্তিও দূর করতে পারেন।

২. সাজেক

পাহাড়ের গায়ে মেঘের আনাগোনা, চারপাশের সবুজ আর দূরে সারি সারি পাহাড়,সাজেকের সৌন্দর্য বরাবরই ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। বর্ষার সবুজের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষের আকাশ ও মেঘ মিলে সাজেকের দৃশ্য হয়ে উঠতে পারে আরও মনোরম।

ভোরে ঘুম থেকে উঠে পাহাড়ের ওপর সূর্যের আলো দেখা, মেঘের ভেলা উপভোগ করা কিংবা বিকেলে পাহাড়ের কোণে বসে চারপাশের প্রকৃতি দেখা—সাজেক ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নিয়ে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও জায়গাটি বেছে নিতে পারেন।

৩. কুয়াকাটা

সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে কুয়াকাটা হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতে হাঁটা, ঢেউয়ের শব্দ শোনা কিংবা বিকেলে সৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখা,কুয়াকাটার ভ্রমণে সবই পাওয়া যায়। একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগও এই সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সমুদ্রের পাড়ে তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করা যায়। সৈকতের পাশাপাশি রাখাইন পল্লি, ঝাউবনসহ আশপাশের কয়েকটি জায়গাও ঘুরে দেখতে পারেন।

৪. সিলেট

পাহাড়, নদী, চা-বাগান, ঝরনা আর সবুজে ঘেরা সিলেট প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বরাবরই আকর্ষণীয়। বর্ষার পর চারপাশের সবুজ আরও সতেজ হয়ে ওঠে। তাই সেপ্টেম্বরের শেষেও সিলেটের প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন।

জাফলংয়ের পাহাড় ও নদী, রাতারগুলের জলাবন কিংবা বিছনাকান্দির পাথর আর পানির সৌন্দর্য—প্রতিটি জায়গারই রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। এর সঙ্গে সিলেটের চা-বাগানে কিছুটা সময় কাটালে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জন যেকোনো সঙ্গেই সিলেট ভ্রমণ করা যায়।

৫. রাঙামাটি

পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদের মেলবন্ধনে রাঙামাটির প্রকৃতি অন্যরকম। নীলচে জলরাশি, সবুজ পাহাড় আর নৌকায় ঘোরার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে এখানে একসঙ্গে পাওয়া যায় প্রকৃতির নানা রূপ।

কাপ্তাই হ্রদে নৌকায় ঘুরে পাহাড়ি দৃশ্য দেখা, ঝুলন্ত সেতু ঘুরে আসা কিংবা শহরের আশপাশের পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন। সেপ্টেম্বরের সবুজ প্রকৃতি আর হ্রদের জলরাশি মিলিয়ে রাঙামাটি হতে পারে সপ্তাহান্তের সুন্দর একটি ভ্রমণ।

ভ্রমণের আগে ছোট্ট প্রস্তুতি

সেপ্টেম্বরের শেষেও হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে। তাই বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নেওয়া ভালো। সঙ্গে ছাতা বা হালকা রেইনকোট রাখলে বৃষ্টির মধ্যেও ভ্রমণ উপভোগ করা সহজ হবে।

পাহাড়, সমুদ্র বা প্রকৃতিনির্ভর জায়গায় গেলে আরামদায়ক পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন। থাকার জায়গা ও যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে থেকে ঠিক করে নিলে ভ্রমণের সময় বাড়তি ঝামেলাও কমবে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস শুধু ভ্রমণের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার একটি দিন নয়, নিজের দেশকে নতুন করে দেখারও একটি সুযোগ। তাই সময়-সুযোগ মিললে এই সেপ্টেম্বরের শেষেই বেরিয়ে পড়তে পারেন দেশের কোনো সুন্দর গন্তব্যে। কখনও পাহাড়ের মেঘ, কখনও চা-বাগানের সবুজ, আবার কখনও সমুদ্রের ঢেউ।ছোট্ট একটি ভ্রমণেই বদলে যেতে পারে চেনা দিনের একঘেয়েমি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।