বিরোধীদল ক্ষমতার আসার জন্যই জুলাই সনদকে হাতিয়ার কর‌ছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

Jul 17, 2026 - 20:31
 0  11
বিরোধীদল ক্ষমতার আসার জন্যই জুলাই সনদকে হাতিয়ার কর‌ছে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলেন। অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

​সভায় বিরোধীদলের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফয়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমরা জুলাই সনদে একসঙ্গে সই করেছি এবং প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের বইয়ে স্পষ্ট বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করবে। আমরা ৩১ দফার মতোই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কমিটেড।

​গণভোট ও সংস্কার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, তার একটি অংশে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। আমি নিজেই স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়া সেদিন যেভাবে বিষয়গুলো নিয়ে এসেছিল, তা আমরা গ্রহণ করিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধান সংস্কার নয়, বরং সংশোধন চাই। জনগণের ভোটে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তাই এখানে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।

​মির্জা ফখরুল বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জুলাই সনদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। আমরা চাই না জুলাই শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার পথ হোক। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফলশ্রুতিতেই ’২৪-এর জুলাই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে, যেখানে ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং ১৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছে।

​সংস্কারের কৃতিত্ব দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার এদেশে বিএনপিই এনেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান; সবই বিএনপির হাত ধরে এসেছে।

এখন বিভাজনের রাজনীতি না করে সবাইকে মিলে একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পথে এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

​স্মরণসভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ শিক্ষকতার পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক দর্শনের চর্চা করে গেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এমাজউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও ভালো মনের মানুষ।

সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুদ, কবি আবদুল হাই শিকদার, হাসান হাফিজ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল। অনুষ্ঠানের শেষে এমাজউদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।