বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি, দাম কমেনি এখনো
দিন দশেক আগে বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছিল কেজিতে ২০ টাকা। সেই দাম এখনো চলমান। বিক্রেতারা বলছেন, আরও কয়েক দিন এই বাড়তি দামে ক্রেতাদের মুরগি কিনতে হতে পারে। কয়েক ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল খুচরা পর্যায়ে বেশির ভাগ দোকানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো দোকানে দাম ১৯০ টাকা রেখেছে। সোনালি মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাইব্রিড বা কালারবার্ড হিসেবে পরিচিত সোনালি বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩১০ টাকায়।
এক-দেড় কেজি আকারের রুই ৩৫০ টাকার কমে পাওয়া যায় না, যা আগে ৩০০ টাকায় কেনা যেত। আর আকার ২ কেজি বা ওপরে হলে দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর তেলাপিয়া, পাঙাশ, কইয়ের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি।
দুই সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০-৩৩০ এবং হাইব্রিড সোনালি ২৮০-২৯০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, গত ঈদুল আজহার মাসখানেক আগে দেড় শ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কেনা যেত। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত বছরের এ সময়ে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৭০ টাকায় কেনা যেত।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল আহমেদ বলেন, বেশি গরমের কারণে গত দুই মাসে খামারগুলোতে কিছু মুরগি মরে গেছে; অনেকে আগে আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। এ কারণে অনেক খামারে নতুন করে মুরগি তোলা হয়নি। সব মিলিয়ে মুরগির দাম বেশি।
এক-দেড় কেজি আকারের রুই ৩৫০ টাকার কমে পাওয়া যায় না, যা আগে ৩০০ টাকায় কেনা যেত। আর আকার ২ কেজি বা ওপরে হলে দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর তেলাপিয়া, পাঙাশ, কইয়ের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি।
গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সাধারণত সবজির সরবরাহ কম থাকলে এবং মাছ–মুরগির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা বাড়ে, সঙ্গে দামও বাড়ে। গতকাল ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাদামি ও সাদা রঙের ডিম (আকারে ছোট) বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।
অন্যান্য মাছের মধ্যে চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ৪০০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত কয়েক দিনে বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সাধারণত সবজির সরবরাহ কম থাকলে এবং মাছ–মুরগির দাম বাড়লে ডিমের চাহিদা বাড়ে, সঙ্গে দামও বাড়ে। গতকাল ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন বাদামি রঙের ডিম ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাদামি ও সাদা রঙের ডিম (আকারে ছোট) বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়।
টিসিবির তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও শসার দাম বেড়েছে। আর দাম কমেছে সরু ও মোটা চাল, খোলা আটা, আমদানি করা রসুন ও বেগুনের। এর মধ্যে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৮৮-১৯৫ টাকা হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে কেজি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। শসার দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০–৮০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে কয়েক ধরনের সরু ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২ টাকা করে কমার তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। আর বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০–৮০ টাকা হয়েছে। অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা রেহানা আক্তার বলেন, ‘ঈদের আগে দেড় শ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলাম। এরপর দাম যে বেড়েছে, তা আর আগের জায়গায় যায়নি। বেশির ভাগ মাছের দামও বলা যায় আমাদের নাগালের বাইরে।’
What's Your Reaction?