ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত
রাজধানীর মহাখালীস্থ রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এর উদ্যোগে 'ফিরে দেখা জুলাই - ২০২৪' শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাওয়া প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের আমলের বঞ্চনাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছাত্র-জনতার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্যদের সাহসী অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গতিশীল করেছিল। সরকার বর্তমানে একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক ভাতা, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর অবদান অনস্বীকার্য।
৫ আগস্টের সংকটকালে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশকে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে উল্লেখ করে তিনি পচা অতীত ভুলে সাম্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আজমি জাতীয় সংহতির তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।’ তবে বর্তমানে সেই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে একটি ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিল’ গঠন করা প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাওয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশিদ আলম, বীরপ্রতীক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, রাওয়ার ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ জাবের, ক্রীড়া সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) ড. মোহাম্মাদ হারুনুর রশিদ ভূইয়া, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আকবর কামাল, দৈনিক নয়া দিগন্তের যুগ্ম সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।
এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আলোচনাসভায় অংশ নেন ।
What's Your Reaction?