পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করছে,নাসের হুসেইন
একের পর এক টেস্টে হারের কারনে সিপিএলে ফর্মে থাকা সাইমকে দলে ফিরিয়েছেন পাকিস্তান । কিন্তু টেস্ট আসার পর দুই ম্যাচে দুই শূন্য করে আউট হয় তিনি। সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন দায় দেখছেন পাকিস্তান নির্বাচকদের। টেস্টের জন্য এভাবে কাউকে দলে এনে পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাসের।
লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দল থেকে বাদ দেওয়া হয় সাত ক্রিকেটারকে। দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাঁদের। দলে নতুন করে নেওয়া হয়েছে সাতজনকে, এর মধ্যে পাঁচজনই টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন। দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এত কিছু করেও এজবাস্টনে শেষ টেস্টে ইনিংস হারের পথে সিরিজে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান।
গতকাল বৃষ্টির কারণে আগেভাগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৫২। নিজেদের প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৫৩ রান।
পাকিস্তান এখনো পিছিয়ে ২৬৮ রানে পিছিয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজে এখনো কোনো ইনিংসে ২০০ রানও করতে পারেনি পাকিস্তান, তাই অনেকেই পাকিস্তানের ইনিংস হার ধরেই নিয়েছেন।
টানা দুই শূন্য সাইমের
পাকিস্তানের এমন পরিস্থিতির জন্য নাসের দায় দিচ্ছেন ম্যানেজমেন্টকে। স্কাই স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে সাইম আইয়ুবকে দেখলে মনে হয়, অনেকক্ষণ ফিল্ডিংয়ে থাকার পর হঠাৎ ব্যাটিং করতে গিয়ে পুরোপুরি মনোযোগী না থাকার একটা ক্ল্যাসিক উদাহরণ।’
নাসের বলে যান, ‘আসল কথা হলো, ওর এখানে থাকাই উচিত ছিল না। সে গত ১১ মাসে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেনি; ১০ দিন আগেও সিপিএল খেলছিল। জানি না, কে মনে করেছে যে বিদেশের কন্ডিশন থেকে উড়িয়ে এনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংস্করণে খেলার পর এই কন্ডিশনে ডিউক বলের বিপক্ষে সে ভালো করতে পারবে। এটা আসলে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি একধরনের অসম্মান এবং অবহেলা।’
একই অনুষ্ঠানে ছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। তাঁর ভাষ্য,‘খেলোয়াড়দেরই শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয়। সাইম দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছে, সে কি আরেকটা সুযোগ পাবে? মনে হয় না। সত্যি বলতে তাঁকে ওপেনিং করানোই ঠিক হয়নি।’
নাসের মনে করেন, পাকিস্তানের এই দলটা দল হিসেবে খেলছে না এবং এর পেছনের কারণও তুলে ধরেন সাবেক এই ব্যাটসম্যান। তাঁর ভাষায়, ‘সিরিজের মাঝপথেই খেলোয়াড়দের সতীর্থ ও রুমমেটদের দল থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া বোলারকেও বাদ পড়তে হয়েছে। যখন ৭ জন খেলোয়াড়কে টেস্টের মাঝে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন দলের মৌলিক মূল্যবোধগুলো নষ্ট হয়ে যায়। খেলোয়াড়েরা তখন ভাবতে শুরু করে, দল যখন আমার সতীর্থদের তোয়াক্কা করে না, তখন আমি কেন দলের জন্য খেলব? আমি কেবল নিজেরটা দেখি
What's Your Reaction?