পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে ইবির শৌচাগার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

Jul 26, 2026 - 18:34
Jul 26, 2026 - 18:34
 0  7
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে ইবির শৌচাগার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের অধিকাংশ শৌচাগার বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে শৌচাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় মসজিদসহ প্রায় সব ভবনের শৌচাগারেই পরিচ্ছন্নতার অভাব প্রকট। অনেক শৌচাগারের দরজা ভাঙা, কোথাও পর্যাপ্ত পানি ও ট্যাপের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বেসিনে ময়লা জমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবহৃত টিস্যু ও অন্যান্য বর্জ্য দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও সেগুলো ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিনেরও ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন ভবনের শৌচাগারের ভেতরে ও বাইরে খাতা, নোট, শিট, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও বইসহ নানা ধরনের আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হলগুলোর শৌচাগার ব্যবহার করেও তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে  শিক্ষার্থীরািএবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে তারা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আনুমানিক ১ হাজার ৮০০টির বেশি শৌচাগার রয়েছে। অথচ এসব শৌচাগার পরিষ্কারের দায়িত্বে আছেন মাত্র ১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাদের মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে কার্যত একজন কর্মীকে প্রায় ১৫০টি শৌচাগার পরিষ্কার করতে হয়। এছাড়া একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য বছরে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ। এত কম অর্থে এত বিপুল পরিমাণ কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।


সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫৫টি। তবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ৩৫ জনকে। পরবর্তীতে অবসর ও মৃত্যুর কারণে এ সংখ্যা কমে প্রায় ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া হলেও এরপর আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে মাত্র ১২ জন পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এস্টেট শাখার দাবি, বাকি কর্মীদের বিভিন্ন দপ্তরে পিয়নের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ। দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট ও তদারকির অভাবে শৌচাগারের পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা।’


ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আদিয়াত আদিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি। কিন্তু অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলের অনেক শৌচাগারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে শৌচাগারগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ফাঙ্গাস ও চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরিষ্কার শৌচাগার এসব রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন ভবনের শৌচাগারের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র ১২ জন কর্মী দিয়ে এত বিপুল সংখ্যক শৌচাগার পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নতুন ও পুরোনো সব ভবনের শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে অন্তত ৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ প্রয়োজন”।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ইবির শৌচাগার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের অধিকাংশ শৌচাগার বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে শৌচাগারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় মসজিদসহ প্রায় সব ভবনের শৌচাগারেই পরিচ্ছন্নতার অভাব প্রকট। অনেক শৌচাগারের দরজা ভাঙা, কোথাও পর্যাপ্ত পানি ও ট্যাপের ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বেসিনে ময়লা জমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবহৃত টিস্যু ও অন্যান্য বর্জ্য দীর্ঘদিন পড়ে থাকলেও সেগুলো ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিনেরও ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন ভবনের শৌচাগারের ভেতরে ও বাইরে খাতা, নোট, শিট, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও বইসহ নানা ধরনের আবর্জনার স্তূপ দেখা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে হলগুলোর শৌচাগার ব্যবহার করেও তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে  শিক্ষার্থীরািএবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে তারা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে আনুমানিক ১ হাজার ৮০০টির বেশি শৌচাগার রয়েছে। অথচ এসব শৌচাগার পরিষ্কারের দায়িত্বে আছেন মাত্র ১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাদের মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে কার্যত একজন কর্মীকে প্রায় ১৫০টি শৌচাগার পরিষ্কার করতে হয়। এছাড়া একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য বছরে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ। এত কম অর্থে এত বিপুল পরিমাণ কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।


সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫৫টি। তবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ৩৫ জনকে। পরবর্তীতে অবসর ও মৃত্যুর কারণে এ সংখ্যা কমে প্রায় ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া হলেও এরপর আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে মাত্র ১২ জন পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এস্টেট শাখার দাবি, বাকি কর্মীদের বিভিন্ন দপ্তরে পিয়নের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।


আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ। দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট ও তদারকির অভাবে শৌচাগারের পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা।’


ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আদিয়াত আদিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি। কিন্তু অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলের অনেক শৌচাগারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে শৌচাগারগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ফাঙ্গাস ও চুলকানিসহ বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরিষ্কার শৌচাগার এসব রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন ভবনের শৌচাগারের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র ১২ জন কর্মী দিয়ে এত বিপুল সংখ্যক শৌচাগার পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নতুন ও পুরোনো সব ভবনের শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে অন্তত ৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ প্রয়োজন”।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ফিচার Vision: বাংলা ভাষায় গভীর অনুসন্ধান, দীর্ঘ আকারের সাংবাদিকতা, মানবিক গল্প এবং বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য Narrative Journalism Platform হওয়া; যা সময়, সমাজ এবং মানুষের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: সমসাময়িক ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং পরিবর্তনকে গভীর গবেষণা, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার, তথ্য, ইতিহাস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করা; যাতে পাঠক কেবল ঘটনা জানতে না পারেন, বরং সেই ঘটনার মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে পারেন।