দেশীয় গ্যাসে সামান্য গতি, আমদানিনির্ভরতা এখনো রয়ে গেল
বাংলাদেশের গ্যাস খাতে সামান্য স্বস্তির খবর এসেছে। ২২ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ২,৫৮৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে। তবে উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে বাস্তব উৎপাদনের ব্যবধান বলছে, গ্যাস খাতের মূল সমস্যা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
পেট্রোবাংলার ২৪ সেপ্টেম্বরের দৈনিক গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদন এবং বিতরণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১,৬০৫ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি। আরও ৯৮২ এমএমসিএফডি এসেছে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে।
দেশের ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৩,৮৫৪ এমএমসিএফডি। বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে তার প্রায় ৬৭ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
দেশীয় উৎপাদনে এগিয়ে বিজিএফসিএল
দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। প্রতিষ্ঠানটির ৪৪টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে এসেছে ৪৮১ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি গ্যাস। বিপরীতে এসব কূপের মোট সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ১৭টি কূপ থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৩৮ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি, যেখানে সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম।
বাপেক্সের ১৫টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে এসেছে ১০৩ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি গ্যাস। প্রতিষ্ঠানটির মোট সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো (আইওসি) ৪৩টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে দিয়েছে ৮৮১ এমএমসিএফডি। এসব কূপের সম্মিলিত সক্ষমতা ১,৬১৫ এমএমসিএফডি। ফলে দেশীয় উৎপাদনে আইওসিগুলোর ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
এলএনজি এখনো সরবরাহের বড় স্তম্ভ
দেশীয় উৎপাদনের বাইরে জাতীয় গ্রিডে আরও ৯৮২ এমএমসিএফডি গ্যাস এসেছে এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণের মাধ্যমে। আরপিজিসিএল পরিচালিত এই ব্যবস্থার সক্ষমতা ১,১০০ এমএমসিএফডি।
অর্থাৎ এলএনজি টার্মিনালগুলোর সক্ষমতার বড় অংশও ব্যবহার করা হয়েছে। এতে একটি বিষয় স্পষ্ট: গ্যাসের মোট সরবরাহ ধরে রাখতে বাংলাদেশকে এখনো দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কনডেনসেটেও আইওসির বড় অবদান
গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে একই সময়ে দেশে মোট ৫,৮২২ দশমিক ২ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে বিজিএফসিএল দিয়েছে ৩৭৪ দশমিক ৩ ব্যারেল, এসজিএফএল ৬১১ দশমিক ৪ ব্যারেল, বাপেক্স ২৫ ব্যারেল এবং আইওসিগুলো ৪,৮১১ দশমিক ৫ ব্যারেল।
সামগ্রিক চিত্রটি তাই মিশ্র। গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে এবং এলএনজি সরবরাহও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ এখনো অব্যবহৃত। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রশ্নটি শুধু কত গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে তা নয়—বিদ্যমান সক্ষমতার কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
What's Your Reaction?