তনু হত্যা মামলায় আরো দুই সাবেক সেনা সদস্যকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলে আবেদন

Aug 10, 2026 - 15:43
 0  8
তনু হত্যা মামলায় আরো দুই সাবেক সেনা সদস্যকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলে আবেদন

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় পলাতক দুই সাবেক সেনা সদস্যকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন-সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সিপাহি শাহিন আলম। তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার হাফিজুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ মেলেনি। তনুর শরীর ও পোশাকে পাওয়া পুরুষের ডিএনএ-এর সঙ্গে তার নমুনার কোনো মিল নেই। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লায় তনু হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর ১০ বছর পর মামলাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা দেয়। ২২ এপ্রিল প্রধান সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে হাফিজুরসহ তিনজন সন্দেহভাজনের (সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি শাহিন) ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

গ্রেফতারের পর ৪ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সে অনুযায়ী তিনি কারামুক্ত হন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার আদালত তার জামিন আদেশ স্থগিত করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। চেম্বার আদালতের বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় শনিবার সকালে পিবিআই ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেফতার করে।

জানা যায়, ১৭ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগ হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনার প্রোফাইল পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, তনুর আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে হাফিজুরের ডিএনএ-এর মিল নেই। প্রতিবেদনটি ১৮ জুন আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাফিজুর রহমানের কুমিল্লার আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আদালতের নির্দেশনার কপি পাওয়ার পর শনিবার সকালে কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত এ পর্যন্ত চারজন সাবেক সেনাসদস্যসহ একজন বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমান ছাড়া অন্য কাউকেই এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরদিকে জাহিদুজ্জামান জাহিদ, শাহিন আলম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ তনুর লাশ পাওয়ার দুদিন আগে (১৮ মার্চ) তার সঙ্গে হাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। ওই ফোনালাপের সূত্র ধরেই হাফিজুরকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। এ বিষয়ে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তনু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় একটি অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে তাকে পারফর্ম করার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে কল করেছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।