তদন্তের চাপ কমাতেই হাফিজুরকে গ্রেপ্তার

Sep 5, 2026 - 17:59
 0  10
তদন্তের চাপ কমাতেই হাফিজুরকে গ্রেপ্তার
তনু হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এরপরই তদন্তের চাপ কমাতে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, মামলার এজাহারে হাফিজুরের নাম নেই। তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদেও তার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর মরদেহ থেকে সংগৃহীত আলামতের সঙ্গে হাফিজুরের ডিএনএর কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
 
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে পরিবারের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন হাফিজুরের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুরের স্ত্রী রওশন আরা লিপি ও তার তিন সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
 
আইনজীবী জানান, ২০১৬ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ তনুর সঙ্গে হাফিজুরের ফোনে যোগাযোগের বিষয়কে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল তাকে বাসা থেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়। ২৪ জুন আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে তনুর মরদেহ থেকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে হাফিজুরের ডিএনএর কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
 
গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুরকে জামিন দেন। পরে ৬ আগস্ট আপিল বিভাগ তার জামিন স্থগিত করেন। এর পরদিন, ৭ আগস্ট হাফিজুর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।
 
হাফিজুরের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে যোগ দেন তিনি। প্রায় ৩২ বছরের চাকরিজীবনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অবসরে যান। ২০১২ সাল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
 
আইনজীবী সরোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ স্ট্যাটিক সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন হাফিজুর। এ কারণে ১৩ মার্চ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তনুর সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ হয়। ১৮ মার্চ আবার যোগাযোগ করা হলে তনু তাকে জানান, তিনি নাট্যদলের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে রয়েছেন এবং অনুষ্ঠানে আসতে পারবেন না।
 
এর দুই দিন পর, ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের আলিপুর এলাকার পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই রাতে হাফিজুর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনেই ছিলেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজুরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে হয়রানি বন্ধ করা, তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান আইনজীবী সরোয়ার হোসেন। যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশেরও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তদন্ত প্রভাবমুক্ত রেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়।
 
তনু হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রহস্যের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাশা করেন হাফিজুর রহমানের আইনজীবী।
 
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরোয়ার হোসেন বলেন, তনু হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এরপরই তদন্তের চাপ কমাতে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।