ঢাকায় উন্মোচন হলো সনির নতুন ‘এফএক্স ফাইভ’ সিনেমা লাইন ক্যামেরা।

Aug 22, 2026 - 23:33
Aug 22, 2026 - 23:36
 0  13
ঢাকায় উন্মোচন হলো সনির নতুন ‘এফএক্স ফাইভ’ সিনেমা লাইন ক্যামেরা।

বাংলাদেশের বাজারে নতুন সিনেমা ক্যামেরা ‘এফএক্স ফাইভ’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড সনি। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যামেরাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করা হয়। ‘লাইটিং দ্য ওয়ে ফরওয়ার্ড’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনে ফটোগ্রাফি, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন।

‘এফএক্স ফাইভ’ মূলত পেশাদার ভিডিওগ্রাফার ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য তৈরি একটি ফুল ফ্রেম ক্যামেরা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সনির নতুন ফুল স্ট্যাকড এক্সমোর আরএস সিএমওএস সেন্সর ও সর্বশেষ বায়োঞ্জ এক্সআর২ প্রসেসিং ইঞ্জিন। এস-লগ৩ মোডে শুটিং করলে ক্যামেরাটি ১৫ স্টপেরও বেশি ডায়নামিক রেঞ্জ দিতে পারে, অর্থাৎ একই ফ্রেমে খুব উজ্জ্বল ও খুব অন্ধকার অংশের খুঁটিনাটিও একসঙ্গে ধরে রাখতে পারে।
এতে বেস আইএসও রয়েছে তিনটি স্তরে, ৮০০, ৪০০০ ও ১২৮০০, যা বিভিন্ন আলোর পরিস্থিতিতে কম নয়েজে শুটিং করতে সাহায্য করে। এফএক্স সিরিজে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে ডুয়াল গেইন শুটিং মোড, যা কম আলোতেও ছবির নয়েজ আরও কমিয়ে আনে।

এফএক্স সিরিজে প্রথমবারের মতো এই ক্যামেরায় রয়েছে ওপেন গেইট শুটিং সুবিধা, অর্থাৎ সেন্সরের পুরো ৩:২ অংশ ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করা যায়। এতে সরাসরি ক্যামেরার ভেতরেই সনির নিজস্ব ১৬-বিট এক্স-ওসিএন RAW ফরম্যাটে ভিডিও রেকর্ড করা সম্ভব, যা পরবর্তী সময়ে সম্পাদনার সময় রঙ ও আলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ অনেক বাড়িয়ে দেয়।
ফাইলের আকার কমাতে এতে যোগ করা হয়েছে দুটি নতুন কোডেক, এক্স-ওসিএন সি১ ও সি২। এসব সুবিধা সম্পাদনার কাজ দ্রুত করতে সাহায্য করে। ক্যামেরাটি ৫কে রেজোল্যুশনে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৬০ ফ্রেম, ৪কে-তে সেকেন্ডে ১২০ ফ্রেম এবং ফুল এইচডিতে সেকেন্ডে ২৪০ ফ্রেম পর্যন্ত ধারণ করতে পারে, যা ধীরগতির বা স্লো মোশন ভিডিওর জন্য কাজে লাগে।
মানুষের ছবি তোলার সময় ক্যামেরাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক হিউম্যান পোজ এস্টিমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোখ, মাথা ও শরীরের অবস্থান শনাক্ত করে ফোকাস ঠিক রাখে, এমনকি কম আলোতেও। রঙের ভারসাম্য ঠিক রাখতে অটো ট্রেসিং হোয়াইট ব্যাল্যান্স বা এটিডব্লিউ ব্যবস্থায় ক্যামেরাটি দৃশ্যমান আলো ও ইনফ্রারেড সেন্সরের পাশাপাশি ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আশপাশের আলো বিশ্লেষণ করে। ফলে ছায়াযুক্ত জায়গা বা ঘরের ভেতরের দৃশ্যেও রঙ স্বাভাবিক দেখায়।


হাতে ধরে শুটিং করার সময় কাঁপুনি কমাতে ক্যামেরায় রয়েছে ৫-অ্যাক্সিস ইন-বডি অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন, যার রোল কারেকশন রেঞ্জ আগের মডেলের প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সাড়ে তিন ইঞ্চি আকারের, প্রায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডটের একটি ৪-অ্যাক্সিস মাল্টি-অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন মনিটরও যুক্ত করা হয়েছে, যা যে কোনো কোণ থেকে ঘুরিয়ে দেখা ও ব্যবহার করা যায়।


ক্যামেরার সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে নতুন দুটি আনুষঙ্গিক যন্ত্রও উন্মোচন করা হয়েছে। একটি হলো খুলে নেওয়া যায় এমন ০.৫৮ ইঞ্চি আকারের একটি ওএলইডি ভিউফাইন্ডার, মডেল ডিভিএফ-ইএল১, প্রায় ৭০ লাখ ডটের রেজোল্যুশনসহ, যা দিয়ে রোদের মধ্যেও স্ক্রিনের ছবি স্পষ্ট দেখা যায়। 


আরেকটি হলো- এক্সএলআর-এইচ২ হ্যান্ডল ইউনিট, যা ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত করলে একসঙ্গে চারটি চ্যানেলে ৯৬ কিলোহার্টজ, ৩২-বিট ফ্লোট মানের উন্নত সাউন্ড সরাসরি ক্যামেরাতেই রেকর্ড করা যায়।


বিশ্বব্যাপী উন্মোচনের আগে ক্যামেরাটি নিয়ে মন্তব্য করেন হলিউডের পরিচিত চিত্রগ্রাহক ক্লদিও মিরান্দা, যিনি ‘টপ গান: ম্যাভেরিক এবং এফ ওয়ান: দ্য মুভি’ ছবিতে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ছোট ও হালকা এই ক্যামেরায় উচ্চমানের ছবি তোলা সম্ভব, যা একে বিভিন্ন পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছে। 


পরিচালক গ্যারেথ এডওয়ার্ডস কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও নেপালে এক প্রকল্পে ক্যামেরাটি ব্যবহার করে বলেন, দ্রুতগতির ও চ্যালেঞ্জিং শুটিংয়ের জন্য এটি বেশ কার্যকর একটি ক্যামেরা।


বাংলাদেশে এফএক্স৫-এর সঙ্গে থাকছে ১৮ মাসের ওয়ারেন্টি সুবিধা, যা সনি সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে দেওয়া হবে। দাম ও কোথায় পাওয়া যাবে তা জানতে আগ্রহীদের সনির অনুমোদিত পরিবেশকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

সনির সিনেমা লাইন সিরিজের ক্যামেরাগুলো আকারে ছোট হলেও পেশাদার মানের ছবি ও ভিডিও ধারণের সক্ষমতার কারণে বিশ্বব্যাপী চিত্রগ্রাহক ও স্বাধীন নির্মাতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ফিচার Vision: বাংলা ভাষায় গভীর অনুসন্ধান, দীর্ঘ আকারের সাংবাদিকতা, মানবিক গল্প এবং বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য Narrative Journalism Platform হওয়া; যা সময়, সমাজ এবং মানুষের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: সমসাময়িক ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং পরিবর্তনকে গভীর গবেষণা, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার, তথ্য, ইতিহাস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করা; যাতে পাঠক কেবল ঘটনা জানতে না পারেন, বরং সেই ঘটনার মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে পারেন।