ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অয়েস্টার মাশরুম, কী বলছে গবেষণা
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর খাবারের তালিকা নিয়ে চিন্তায় পড়েন অনেকেই। কী খাবেন, কী খাবেন না, এ নিয়ে নানা পরামর্শও পাওয়া যায়। এর মধ্যেই পরিচিত একটি খাবার অয়েস্টার মাশরুম নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের ওপর এই মাশরুমের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাও হয়েছে।
অয়েস্টার মাশরুমের বৈজ্ঞানিক নাম Pleurotus ostreatus। এটি খাওয়ার উপযোগী এক ধরনের মাশরুম। এতে প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজের পাশাপাশি বিটা-গ্লুকানসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
এই জায়গাতেই অয়েস্টার মাশরুম নিয়ে গবেষণার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অয়েস্টার মাশরুম খাওয়ার পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সূচকে পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে মাশরুমে থাকা খাদ্যআঁশ ও বিটা-গ্লুকানের মতো উপাদান নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
তবে এখানেই একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি,অয়েস্টার মাশরুম খেলে ডায়াবেটিস ভালো হয়ে যায়, এমন প্রমাণ নেই। মানুষের ওপর হওয়া গবেষণাগুলো এখনো সীমিত এবং সব গবেষণার ফলও এক নয়। তাই এটিকে ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
অয়েস্টার মাশরুমের আরেকটি সম্ভাব্য দিক হলো কোলেস্টেরল। বিভিন্ন গবেষণায় মাশরুম গ্রহণের সঙ্গে রক্তের কিছু চর্বি বা লিপিডের মাত্রার পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা হয়েছে। কিছু গবেষণায় মোট কোলেস্টেরল, এলডিএল বা ট্রাইগ্লিসারাইড কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি। ফলে কোলেস্টেরল কমানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে অয়েস্টার মাশরুমকে এখনই দাবি করা ঠিক হবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার রাখা, পর্যাপ্ত শাকসবজি ও খাদ্যআঁশ গ্রহণ এবং অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও লবণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বৈচিত্র্য, ভারসাম্য, পরিমিতি ও পর্যাপ্ত পুষ্টি।
তাই অয়েস্টার মাশরুমকে আলাদা কোনো ডায়াবেটিসের খাবার হিসেবে না দেখে সুষম খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। কী পরিমাণে এবং কীভাবে রান্না করে খাওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল, মাখন বা লবণ দিয়ে রান্না করলে স্বাস্থ্যকর খাবারটিই অস্বাস্থ্যকর হয়ে যেতে পারে।
আর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কেউ যদি অয়েস্টার মাশরুম খাওয়া শুরু করতে চান, শুধু মাশরুমের ওপর নির্ভর করে ওষুধ বন্ধ করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ বাদ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল বেশি, তাদের নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
অয়েস্টার মাশরুম নিয়ে গবেষণায় সম্ভাবনাময় কিছু ফল পাওয়া গেলেও এটিকে ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের চিকিৎসা বলা যাবে না। তবে সুষম খাবারের অংশ হিসেবে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সুস্থ থাকতে তাই একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা ও চিকিৎসকের পরামর্শ এই তিনটিকেই গুরুত্ব দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।
What's Your Reaction?