ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর–সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীরে মাছ শিকারে গিয়ে একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ১৮ জন মাঝিমাল্লা আটকা পড়েছেন। শনিবার ভোররাতে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর থেকে তাঁরা সোনারচর–সংলগ্ন মোহনা থেকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে সাগরে অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগের পর এ কথা জানিয়েছে তাদের পরিবার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি ,বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় আশপাশের ট্রলারগুলোও জেলেদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে পারছে না। এদিকে উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় তাঁরা উদ্ধার অভিযান চালাতে পারছেন না।
ট্রলারটির মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান গতকাল রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, শনিবার সকালে তাঁর বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা ভোলার চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। পরে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তাঁরা সাগরেই আটকা পড়েন।
গতকাল রাত ১০টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে মেহেদি বলেন, তাঁর বাবা (হানিফ মিয়া) জানিয়েছেন, সাগর এখন উত্তাল। আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাতের ইশারায় সহায়তা চাওয়া হলেও তাঁরা উত্তাল ঢেউয়ের কারণে এগিয়ে আসেননি।
ট্রলারটির মাঝি হানিফ মিয়া পরে তীরে থাকা বন্ধু ও স্বজনদের কাছে মুঠোফোনে সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯–এ যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম নেই বলে জানানো হয়।
রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জাম তাঁদের কাছে নেই। সেখানে যেতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া সেখানে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানোর সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। তাঁদের টহল দল রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায় আছে।
রাঙ্গাবালী নৌ পুলিশের ইনচার্জ জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁরা জানেন। সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
What's Your Reaction?