উদ্বেগে বাড়তে পারে চুলকানি
হঠাৎ ত্বকে কোনো দাগ বা অ্যালার্জির লক্ষণ নেই, তবু চুলকানি থামছে না? সবসময় এর কারণ ত্বকের সমস্যা নাও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তার প্রভাবেও শরীরে অস্বস্তিকর চুলকানি দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ বাড়লে শরীরে কর্টিসল ও অন্যান্য স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায়। ফলে ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, র্যাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের একজিমা বা সোরিয়াসিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও মানসিক চাপ রোগকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
উদ্বেগের সঙ্গে ত্বকের সম্পর্ক
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মস্তিষ্ক ও ত্বকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উদ্বেগ বাড়লে স্নায়ুর সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। তখন স্বাভাবিক একটি অনুভূতিকেও তীব্র চুলকানি হিসেবে মনে হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণেও হিট র্যাশ বা ঘামাচি তৈরি হয়, যা চুলকানি আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুধু চুলকানি নয়, হতে পারে অন্যান্য সমস্যাও
উদ্বেগের কারণে অতিরিক্ত চিন্তা ও অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কী করবেন?
উদ্বেগের কারণে চুলকানি হলে প্রথমত উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এজন্য পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। ধ্যান, যোগব্যায়াম ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন। ত্বকে সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। নখ ছোট রাখুন এবং চুলকানো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। চুলকানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা র্যাশ ছড়িয়ে পড়লে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
মন ভালো থাকলে ত্বকও ভালো থাকে চিকিৎসকেরা মনে করেন, মানসিক সুস্থতা ও ত্বকের সুস্থতা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই শুধু ক্রিম বা ওষুধ নয়, উদ্বেগ কমানো, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়াও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উদ্বেগ ও মানসিক চাপ শুধু মনেই নয়, ত্বকেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলকানি কমাতে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ
What's Your Reaction?