উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন কিম সং গি
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। এর অংশ হিসেবে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে।
শনিবার অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।তবে নো কোয়াং চোলকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হয়নি। তাকে ক্ষমতাসীন দলের অস্ত্রশিল্প বিভাগের প্রথম উপ-পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদ হারালেও দেশের সামরিক ও অস্ত্র উৎপাদন কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে থাকছেন তিনি।
তবে নো কোয়াং চোলকে কেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হলো, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তাই তার অপসারণের পেছনে কোনো শাস্তিমূলক কারণ ছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সামরিক প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য গবেষক ও কর্মকর্তাদের প্রশংসার পরপরই এই রদবদল ঘটে। কেসিএনএ জানায়, দেশটির অস্ত্র গবেষণাকেন্দ্র সম্প্রতি এমন কিছু অনন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, যা উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ করার সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপ সামনে এলো।
নিয়মিত এসব সামরিক মহড়াকে পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ওপর হামলার প্রস্তুতি বলে অভিহিত করে আসছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছর মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার নির্দেশ দেওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি নজর কেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ধরনের সামরিক মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি সরাসরি ‘উসকানিমূলক’ বলে মনে করেন। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সমর্থন না দেওয়ায় তিনি দক্ষিণ কোরিয়ারও কঠোর সমালোচনা করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ট্রাম্প তার ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছেন।
কিম জং উন এর এমন পরিকল্পনার সঠিক ধারনা পাওয়া না গেলেও ধারনা করা হয় উত্তর কোরিয়ার সামরিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
What's Your Reaction?