ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ ইসরায়েল
বিশ্ব ডেস্ক
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে, এমন আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইসরায়েল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার ইরানের শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। গত শনিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’ রয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানায়, গত সপ্তাহান্তে দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ বাস্তবে কী ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের ভয়াবহ সংঘাত হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে থেকে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। সেই সংঘাতের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় গত শনিবার এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।
তবে ইসরায়েল প্রকাশ্যে এখনো ইরানে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি। দেশটি মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
গত শুক্রবার দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তবে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘বাকি সবকিছুর ক্ষেত্রে আমাদের দেখতে হবে, ইরানের ভেতরে আসলে কী ঘটছে।’
What's Your Reaction?