হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর কী ইঙ্গিত দেয়?
হার্ট অ্যাটাক অনেক সময় হঠাৎ ঘটে বলে মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে শরীর আগে থেকেই কিছু সতর্কসংকেত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে, সব উপসর্গই হার্ট অ্যাটাকের জন্য নির্দিষ্ট নয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের কারণেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে বা নতুনভাবে শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত:
বুকের মাঝখানে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া। এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে অথবা কিছু সময় পর আবার ফিরে আসতে পারে।
ব্যথা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া
বুকের ব্যথা অনেক সময় বাম হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ কিংবা উপরের পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শ্বাসকষ্ট
অল্প পরিশ্রমে কিংবা বিশ্রাম অবস্থায়ও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে, হার্ট অ্যাটাকের আগাম লক্ষণ হতে পারে।
ঠান্ডা ঘাম
হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম হওয়া, বিশেষ করে বুকের অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা
অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের আগে বমিভাব, বদহজম বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ বেশি দেখা যায়।
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে বা হৃদস্পন্দনের সমস্যার কারণে মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো কিংবা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি হতে পারে।
হৃদস্পন্দনের অনিয়ম
হৃদপিণ্ড অস্বাভাবিক দ্রুত, ধীর বা অনিয়মিতভাবে ধড়ফড় করলে তা গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।
বিশ্রামেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারলে বিশ্রাম অবস্থাতেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া
হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে তরল জমে পা ও গোড়ালি ফুলে যেতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে
American Heart Association (AHA)-এর তথ্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে সবসময় তীব্র বুকব্যথা নাও থাকতে পারে। অনেক সময় নিচের উপসর্গগুলোই প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়-
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
বমি বমি ভাব
পিঠ বা চোয়ালে ব্যথা শ্বাসকষ্ট
মাথা ঘোরা
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
নিচের ঝুঁকির কারণগুলো থাকলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে- উচ্চ রক্তচা
ডায়াবেটি
রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকা
ধূমপান
স্থূলতা
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পারিবারিকভাবে হৃদরোগের ইতিহাস
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান বা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন— ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী বুকব্যথা
বুকের চাপের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট
ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা ও বমিভাব
ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
প্রতিরোধে যা করবেন
নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন
ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার করুন।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম করুন।
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ বন্ধ করবেন না।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।
তথ্যসূত্র
World Health Organization (WHO). Cardiovascular diseases (CVDs)
American Heart Association (AHA). Heart Attack Warning Signs
Centers for Disease Control and Prevention (CDC). Heart Disease Facts
National Heart, Lung, and Blood Institute (NHLBI). Heart Attack
Mayo Clinic. Heart attack – Symptoms and causes
স্বাস্থ্যবিষয়ক ঘোষণা: এই প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্বস্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক সূত্র থেকে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
What's Your Reaction?