স্ট্রেস কমাতে প্রতিদিনের যেসব অভ্যাস কাজে আসে
কাজের চাপ, পারিবারিক চিন্তা, অর্থনৈতিক সমস্যা কিংবা নানা অনিশ্চয়তায় প্রতিদিনই কমবেশি স্ট্রেসে ভুগছেন অনেকে। দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপ শুধু মন খারাপ বা অস্থিরতার কারণই নয়, ঘুম, মনোযোগ ও দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে স্ট্রেস সামলাতে সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস নিয়মিত করলেই মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরামর্শ অনুযায়ী, স্ট্রেস জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও এটি সামলানোর কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। নিয়মিত ঘুম, শরীরচর্চা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা এর মধ্যে অন্যতম।
স্ট্রেস কমাতে যা করতে পারেন:
প্রথমেই ঘুমের দিকে নজর দিন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি মনকেও চাপ সামলাতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার না করাও ভালো।
প্রতিদিন কিছুটা হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন
জিমে যাওয়ার সময় না থাকলেও ২০-৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা পছন্দের কোনো শারীরিক কাজে সময় দেওয়া যেতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং জমে থাকা মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে।
কাজের মাঝেও ছোট বিরতি নিন
একটানা কাজ করলে ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়তে পারে। তাই কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিটের জন্য উঠে হাঁটা, চোখ বন্ধ করে বসা বা একটু গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এতে মন কিছুটা শান্ত হবে এবং কাজে মনোযোগ ফেরানো সহজ হতে পারে।
কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন
কোনো বিষয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তা হলে একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা না করে বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কাছের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও অনেক সময় মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কমান
সারাক্ষণ খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নানা ধরনের নেতিবাচক কনটেন্ট দেখলে মানসিক চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকা ভালো। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস করা যেতে পারে।
নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখুন
বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা, রান্না করা, ছবি আঁকা কিংবা বাইরে একটু হাঁটতে যাওয়া।যে কাজ করতে ভালো লাগে, প্রতিদিন তার জন্য কিছুটা সময় রাখুন। ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের ভালো লাগার কাজ করা মনকে স্বস্তি দিতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও করতে পারেন
কয়েক মিনিট ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে। স্ট্রেসের মুহূর্তে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে ধীরে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস সহজেই করা যায়।
সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা করবেন না
দিনের কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। কোন কাজটি আগে করা জরুরি, সেটি ঠিক করে ধীরে ধীরে এগোন। সবকিছু একদিনে শেষ করার চাপ নিজের ওপর না দেওয়াই ভালো।
তবে স্ট্রেস যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং এর কারণে ঘুম, খাওয়া, কাজ বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
স্ট্রেস পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব না হলেও তা সামলানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা, ফোনে সময় কমানো এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখার মতো ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
What's Your Reaction?