শীতের আগে গিজার চালুর প্রস্তুতি, দুর্ঘটনা এড়াতে মানুন ৫ সতর্কতা
শীত আসার আগেই বাসাবাড়িতে গিজার ব্যবহারের প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার হঠাৎ চালু করলেই ঘটতে পারে বিপদ। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গ্যাস লিক কিংবা বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শীতের শুরুতেই গিজারের কার্যকারিতা পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গিজার চালুর আগে যা করবেন
অনেকেই প্রয়োজনের সময় সরাসরি গিজারের সুইচ চালু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ, পানির পাইপ কিংবা অন্যান্য যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
গিজার চালুর আগে এর বাইরের অংশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও পাইপ পরীক্ষা করুন। তার ছেঁড়া, পোড়া দাগ, অস্বাভাবিক গন্ধ কিংবা পানি লিকের লক্ষণ দেখা গেলে গিজার চালু করবেন না। প্রয়োজন হলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদের সাহায্য নিন।
দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করানো হলে শীতের শুরুতেই পেশাদার কারিগর দিয়ে গিজার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। নিজে যন্ত্র খুলে মেরামতের চেষ্টা করবেন না।
নিয়মিত সার্ভিসিং কেন জরুরি?
গিজারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। পানির সংযোগ, পাইপ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তার যন্ত্রাংশ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে।
বৈদ্যুতিক গিজারের ক্ষেত্রে তার, আর্থিং ও সার্কিট ব্রেকার পরীক্ষা করা জরুরি। অন্যদিকে, গ্যাসচালিত গিজারের বার্নার, গ্যাসের পাইপ, সংযোগ এবং ধোঁয়া নিষ্কাশনের ব্যবস্থা পরীক্ষা করাতে হবে।
কোনো ত্রুটি বা লিকেজ পাওয়া গেলে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গিজার ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
বৈদ্যুতিক না গ্যাসচালিত, কোন গিজারে ঝুঁকি বেশি?
দুই ধরনের গিজারেই আলাদা ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে। সঠিকভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বৈদ্যুতিক গিজার: ত্রুটিপূর্ণ তার, অপর্যাপ্ত আর্থিং কিংবা ভুল বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সঠিক ইনস্টলেশন, উপযুক্ত সার্কিট ব্রেকার এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গ্যাসচালিত গিজার: গ্যাস লিক, আগুন এবং কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কার্বন মনোক্সাইড বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস। ত্রুটিপূর্ণ দহন বা ধোঁয়া নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে এটি ঘরে জমে যেতে পারে। এর সংস্পর্শে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অজ্ঞান হওয়া, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বিশেষ করে ছোট ও বদ্ধ বাথরুমে গ্যাস গিজার স্থাপন বিপজ্জনক। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী উপযুক্ত স্থানে গিজার বসানো, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং ধোঁয়া বাইরে বের হওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
গিজার ব্যবহারে মানুন ৫ সতর্কতা
১. ভেজা হাতে সুইচ ধরবেন না: বৈদ্যুতিক সংযোগ স্পর্শ করার আগে হাত শুকনো রাখুন। বৈদ্যুতিক গিজারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
২. অস্বাভাবিক লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না: পোড়া গন্ধ, অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা পানি লিকের লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে সতর্ক হোন: আগুন জ্বালাবেন না এবং কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করবেন না। নিরাপদে বাইরে চলে যান। বাইরে থেকে নিরাপদে সম্ভব হলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করুন এবং জরুরি সহায়তা নিন।
৪. নিজে মেরামতের চেষ্টা করবেন না: বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাসের পাইপ কিংবা যন্ত্রের ভেতরে ত্রুটি দেখা দিলে দক্ষ প্রযুক্তিবিদের সাহায্য নিন।
৫. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করান: প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী গিজার ও এর নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে পুনরায় চালুর আগে বিশেষভাবে পরীক্ষা করানো ভালো।
শীতের মৌসুমে গিজার ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সঠিক ইনস্টলেশন, নিয়মিত সার্ভিসিং এবং সতর্ক ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গ্যাস লিক ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শীত শুরু হওয়ার আগেই গিজার পরীক্ষা করান এবং নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলুন।
What's Your Reaction?