ম্যাট লিপস্টিকের বদলে গ্লসি ঠোঁটে বাড়ছে আকর্ষণ!
ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চায় ঠোঁটের সাজে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে গ্লসি ফিনিশ। ম্যাট লিপস্টিকের পাশাপাশি ঠোঁটে চকচকে আভা আনতে লিপগ্লস, লিপ অয়েল ও টিন্টেড লিপ বামের ব্যবহারও নজর কাড়ছে। ন্যুড, পিঙ্ক ও ব্রাউন শেডের সঙ্গে গ্লসি ফিনিশের সমন্বয় আধুনিক মেকআপে যোগ করছে নতুন মাত্রা। তবে এই পরিবর্তনকে ম্যাট লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বরং দুই ধরনের ফিনিশই মেকআপপ্রেমীদের পছন্দে জায়গা করে নিচ্ছে।
গ্লসি লিপের প্রতি আকর্ষণ কেন?
ম্যাট লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। এর গাঢ় রং, পরিপাটি ফিনিশ এবং তুলনামূলক কম চকচকে ভাব অনেকের পছন্দ। তবে গ্লসি লিপের আকর্ষণ কিছুটা আলাদা। ঠোঁটে আলো প্রতিফলিত হওয়ায় এটি মেকআপে যোগ করে উজ্জ্বলতা এবং ঠোঁটকে তুলনামূলক মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে যারা ভারী মেকআপের পরিবর্তে হালকা ও সতেজ সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য গ্লসি লুক হতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প। হালকা বেস মেকআপ, সামান্য ব্লাশ এবং ঠোঁটে স্বচ্ছ গ্লস—এই সাধারণ সমন্বয়েও তৈরি করা যায় পরিপাটি সাজ।
ব্রাউন লিপলাইনারের সঙ্গে গ্লসের নতুন সমন্বয়
গ্লসি লিপের সাজে ব্রাউন লিপলাইনারের ব্যবহার বিশেষভাবে নজরকাড়া। ঠোঁটের কিনারায় হালকা বাদামি রঙের লিপলাইনার ব্যবহার করে মাঝখানে ন্যুড বা পিঙ্ক গ্লস লাগালে ঠোঁটে তৈরি হয় সুন্দর রঙের গভীরতা।
এই স্টাইলের বিশেষত্ব হলো, এটি নিজের পছন্দ অনুযায়ী সহজেই পরিবর্তন করা যায়। ন্যুড গ্লস দিয়ে রাখা যায় স্বাভাবিক, স্নিগ্ধ লুক। আবার চকলেট ব্রাউন বা ক্যারামেল টোন ব্যবহার করলে সাজে আসতে পারে কিছুটা গাঢ় ও আভিজাত্যপূর্ণ ভাব।
দিনের বেলায় অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির জন্য হালকা গ্লসি লুক মানানসই হতে পারে। অন্যদিকে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান বা পার্টিতে গাঢ় লিপলাইনারের সঙ্গে উজ্জ্বল গ্লস যোগ করতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।
কোন গ্লসি শেডে কেমন সাজ?
গ্লসি লিপের ক্ষেত্রে রং নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঠোঁটের রং, পোশাক এবং মেকআপের ধরন অনুযায়ী একই শেডের আবেদনও ভিন্ন হতে পারে।
ন্যুড ও পিচ: যারা স্বাভাবিক ও হালকা সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য ন্যুড ও পিচ শেড ভালো বিকল্প। প্রতিদিনের মেকআপে এই রংগুলো সহজেই মানিয়ে যায়।
সফট পিঙ্ক: সতেজ ও কোমল লুকের জন্য পিঙ্ক গ্লস বেছে নেওয়া যেতে পারে। হালকা চোখের সাজের সঙ্গে এটি সুন্দর সমন্বয় তৈরি করে।
ব্রাউন ও ক্যারামেল: একটু গাঢ় এবং আধুনিক সাজের জন্য ব্রাউন বা ক্যারামেল টোনের গ্লস ব্যবহার করা যায়। ব্রাউন লিপলাইনারের সঙ্গে এই শেডগুলো বিশেষভাবে মানানসই।
বেরি ও চেরি: সন্ধ্যার অনুষ্ঠান কিংবা পার্টির সাজে কিছুটা গাঢ় রং চাইলে বেরি বা চেরি টোন বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ঠোঁটের সাজে যোগ হয় উজ্জ্বলতা ও স্বতন্ত্রতা।
গ্লসি লিপস্টিক ব্যবহারে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
গ্লসি লুক আকর্ষণীয় হলেও সুন্দর ফিনিশ পেতে ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি। শুষ্ক ও ফাটা ঠোঁটে গ্লস লাগালে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাই ঠোঁট পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লিপ বাম ব্যবহার করা ভালো।
গ্লস লাগানোর আগে ঠোঁটের অতিরিক্ত শুষ্কতা দূর করতে কোমলভাবে পরিচর্যা করা যেতে পারে। এরপর অল্প পরিমাণ গ্লস লাগিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িয়ে নেওয়া যায়। অতিরিক্ত গ্লস ব্যবহার করলে ঠোঁটে আঠালো অনুভূতি হতে পারে, তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা উচিত।
এ ছাড়া ঠোঁটের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় প্রসাধনীর উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। কোনো পণ্য ব্যবহারে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করাই ভালো।
ম্যাট লিপস্টিক কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে?
গ্লসি লিপের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও ম্যাট লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা শেষ হয়ে গেছে, এমনটা বলা যায় না। ম্যাট লিপস্টিকের দীর্ঘস্থায়ী ফিনিশ এবং গাঢ় রঙের আবেদন এখনো অনেকের পছন্দ। অন্যদিকে, গ্লসি লিপের উজ্জ্বলতা ও সতেজ লুক আলাদা ধরনের সৌন্দর্য তৈরি করে।
বর্তমানে মেকআপের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়। কেউ ম্যাট লিপস্টিকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ গ্লসি ফিনিশ পছন্দ করেন। চাইলে একই সাজে ম্যাট লিপস্টিকের ওপর অল্প গ্লস ব্যবহার করেও তৈরি করা যায় ভিন্নধর্মী লুক।
মেকআপের ট্রেন্ড পরিবর্তনশীল হলেও নিজের পছন্দের সাজই সৌন্দর্য প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্লসি ঠোঁটের উজ্জ্বলতা হোক কিংবা ম্যাট লিপস্টিকের পরিপাটি ফিনিশ—দুই ধরনের সাজেরই রয়েছে আলাদা আবেদন। তাই ট্রেন্ড অনুসরণের পাশাপাশি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, পছন্দ এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই লিপস্টিক বেছে নেওয়াই হতে পারে সৌন্দর্যচর্চার সেরা উপায়।
What's Your Reaction?