বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে লোডশেডিং বেড়েছে : প্রতিমন্ত্রী
গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা ও কৃষিতে চাহিদা বাড়ার কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে।প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ফ্রিজ, টিভি, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে এই বিষয়টিও প্রভাব ফেলছে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ খাতের অগ্রাধিকার, জনকল্যাণে গৃহীত ব্যবস্থা, মিটার ভাড়া এবং জুন ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে টেকসই করা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ, ঈদুল আজহা, গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসের বিল বৃদ্ধি শুধু ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেও হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তবে, কতিপয় ক্ষেত্রে কিছু করণিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর ব্যয়ের সম্পূর্ণ চাপ না পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, প্রি-পেইড ও স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
What's Your Reaction?