বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যেভাবে রক্ষা পেল

Oct 8, 2026 - 10:20
 0  5
বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যেভাবে রক্ষা পেল
ছবি :সংগৃহীত

মহাকাশে ছুটে আসছিল ভারতের একটি পুরনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে হঠাৎ বেজে ওঠে জরুরি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ট্র্যাকার’ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের গর্বের স্যাটেলাইট ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ (বিএস-১)-এর দিকে দানবের বেগে ধেয়ে আসছে ভারতের পুরোনো এক স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ!


গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্র্যাকার থেকে এমন সতর্কবার্তা পায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। এরপর টানা চার দিন উৎকণ্ঠায় কাটে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকৌশলীদের।

২০০৯ সালে এমন এক ধাক্কায় মহাকাশে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সচল ও রাশিয়ার অকেজো দুটি স্যাটেলাইট। এবার সেই একই বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি।

চার দিন যেন কাটছিল না

হাতে সময় একদম কম। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকৌশলীদের রাতের ঘুম হারাম। রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে সবার। স্যাটেলাইটটিকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও ছিল খুবই সীমিত। ছুটি বাতিল করে ডাক দেওয়া হয় ৫০ জনেরও বেশি প্রকৌশলীকে। মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও রাখছিলেন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর।


জানা গেল, ধেয়ে আসা ওই ধ্বংসাবশেষটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের অংশ। এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে এমন বিপদে পড়েছিল বিএস-১।

তবে এবার আর ভুল হওয়ার উপায় ছিল না। নিখুঁত হিসাব-নিকাশ কষে ১৩ আগস্ট প্রকৌশলীরা সিদ্ধান্ত নিলেন। বিএস-১ কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হলো। এরপর দম আটকে অপেক্ষা। সবার চোখের সামনে দিয়ে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে সাঁই করে বেরিয়ে গেল সেই ধ্বংসাবশেষটি। বিপদ কাটতেই স্যাটেলাইটটিকে আবার ফিরিয়ে আনা হলো তার আগের সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে।

বিদেশের সাহায্য ছাড়াই আমাদের দেশের প্রকৌশলীদের এই সফল কূটকৌশল ও সাহসিকতা মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ন্যাশনাল ভিশন: বাংলাদেশের জাতীয় জনজীবন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও জ্ঞানকেন্দ্র হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় ঘটনাপ্রবাহের প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: রাজধানী, মন্ত্রণালয়, সংসদ, আদালত, নির্বাচন, জনসেবা এবং নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি দ্রুত, নির্ভুল, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।