প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারতে : আটক ৭ শতাধিক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে ৭০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী ও সঞ্জয় সিং এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা রয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-ছাত্র সংগঠনের সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
কর্মকর্তারা জানান, অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। বিক্ষোভস্থল এবং আশপাশের এলাকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস), ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছে। এই ধারার আওতায় পূর্বানুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, বিক্ষোভ, পিকেটিং ও ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্লোগান দেওয়া ও জনসমক্ষে বক্তৃতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাদের অনেককে আটক করে পুলিশ।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ নর্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও আতিশিও রয়েছেন। এ ছাড়া আইসা, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে সেখানে ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। ফিরোজ শাহ রোডে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয়।
এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় দিল্লি মেট্রো মধ্য দিল্লির কয়েকটি স্টেশনে সাময়িকভাবে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
What's Your Reaction?