পানির নিচে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু

Sep 11, 2026 - 22:36
Sep 11, 2026 - 22:36
 0  7
পানির নিচে রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে  ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটনকেন্দ্রের ঝুলন্ত সেতুটি আবারও ডুবে গেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুর পাটাতনে প্রায় চার ইঞ্চি পানি ওঠে। এ অবস্থায় ঝুঁকি এড়াতে সেতুতে দর্শনার্থীদের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পর্যটন কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, চেঙ্গী, মাইনী ও কাচালং নদী এবং ভারতের মিজোরাম থেকে আসা ঢলের পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে মিশছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরে হ্রদের পানি বাড়ছে। উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকায় শুক্রবার বিকেলে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে ডুবে যায়।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে শুক্রবার বিকেলে ঝুলন্ত সেতুতে চার ইঞ্চি পানি ওঠে। ঝুঁকি এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেতু দিয়ে পারাপার বন্ধ করা হয়েছে। পানি কমে গেলে আবারও দর্শনার্থীদের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে।


এদিকে কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ার কারণে পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও কাপ্তাই বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বাঁধের জলকপাট খোলা হলো।

শুক্রবার সকালে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল পৌঁছালে জলকপাটগুলো ছয় ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে ৯ হাজার পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর জলকপাটগুলো বন্ধ করা হয়েছিল।


এর আগে, গত ২৯ আগস্ট কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে যায়। জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে সেদিন দুপুর থেকে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৮৬ সালে নয়নাভিরাম ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করেছিলো। দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি দেখতে জলপথে ও স্থলপথে যে কোনো মাধ্যমে সহজে যাওয়া যায়। বর্তমানে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে দেশবিদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

সারাদেশ ভিশন: বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, তথ্যভিত্তিক এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা দেশের তৃণমূল বাস্তবতা বোঝার প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের স্থানীয় জনজীবন, স্থানীয় সরকার, আঞ্চলিক উন্নয়ন, জনসেবা, নাগরিক সমস্যা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব ঘটনাবলিকে নির্ভুল, দ্রুত, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ ও সমাধানমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের কণ্ঠস্বর জাতীয় সিদ্ধান্ত ও জনআলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়।