ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড

Sep 30, 2026 - 09:38
Sep 30, 2026 - 09:39
 0  4
ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে তিন বছর আগে  ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ফলে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার মামলায় তারই সৎ বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।পাশাপাশি এই আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণা সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় ৷ এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  
 
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী শিশু অথবা তার আইনগত অভিভাবক পাবেন। নির্ধারিত সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


রায়ে পর্যবেক্ষণ বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এ ধরনের অপরাধের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে আদালত বলেন, এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, যে সমাজের সে সদস্য, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে।

আরো বলা হয়, সমাজের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব।জামাল হোসেন একজন মানুষ হিসেবে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ধর্ষণ করে একটি ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোর স্থানীয় নবীনগর ঢাকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আসামি মো. জামাল হোসেন ভুক্তভোগীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হওয়ায় তারা একই বাসায় বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচরের নবীনগর এলাকায় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ঘটনায় কিশোরীর মা ২৮ অগাস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামালের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ অগাস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল থেকে আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় এল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।