দাঁতের হলদে ভাব কমাতে করণীয়
এক ঝলক সুন্দর হাসি সহজেই মানুষের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। তবে দাঁতের হলদে ভাব বা দাগ অনেকের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। চা-কফি, ধূমপান, মুখের অপর্যাপ্ত পরিচর্যা কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে দাঁতের স্বাভাবিক রঙেও পরিবর্তন আসতে পারে। কিছু সহজ ও নিরাপদ অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে দাঁতে নতুন করে দাগ পড়া কমানো এবং মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্রাশ করুন:
দাঁতের যত্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো দিনে দুবার, প্রায় দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ করা। ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। খুব জোরে দাঁত ঘষে ব্রাশ করা উচিত নয়, কারণ এতে এনামেল ও মাড়ির ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি জিহ্বাও নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।
ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন:
ব্রাশ করার পরও দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা ও প্লাক জমে থাকতে পারে। প্রতিদিন ফ্লস করলে এসব জায়গা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং মাড়ির সুস্থতাও বজায় থাকে। ফলে দাঁতে দাগ জমার ঝুঁকিও কমে।
চা-কফি খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলকুচি করুন:
চা, কফি ও কিছু গাঢ় রঙের খাবার নিয়মিত খেলে দাঁতে দাগ পড়তে পারে। এসব খাওয়ার পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করে নিলে দাঁতে রঙের উপাদান জমে থাকা কিছুটা কমানো যায়। ধূমপানও দাঁতে দাগের অন্যতম কারণ, তাই এটি এড়িয়ে চলা সবচেয়ে ভালো।
স্বাস্থ্যকর ও কাঁচা ফল-সবজি খান:
আপেল, গাজর ও শসার মতো ফল-সবজি চিবিয়ে খেলে লালা নিঃসরণ বাড়ে এবং মুখের স্বাভাবিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে এগুলো দাঁতের হলদে ভাব দূর করার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়। দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
লেবু বা বেকিং সোডার মতো টোটকা এড়িয়ে চলুন:
দ্রুত দাঁত সাদা করার আশায় লেবুর রস, ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে দাঁত ঘষা ঠিক নয়। অ্যাসিডিক বা অতিরিক্ত ঘষাযুক্ত উপাদান দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে এবং দাঁতে সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে। দাঁত সাদা করার প্রয়োজন হলে নিরাপদ পদ্ধতির জন্য দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
দাঁতের হলদে ভাব সবসময় অপরিষ্কার থাকার কারণে হয় না। বয়স, দাঁতের স্বাভাবিক গঠন, ওষুধ বা অন্যান্য ডেন্টাল সমস্যার কারণেও দাঁতের রঙ বদলাতে পারে। নিয়মিত পরিচর্যার পরও সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
What's Your Reaction?