ডিটক্স ওয়াটার খালি পেটে নাকি ভরা পেটে, জেনে নিন সঠিক সময়
বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে ডিটক্স ওয়াটার বেশ জনপ্রিয়।সাধারণত লেবু, শসা, পুদিনা, আদা বা বিভিন্ন ফল যেমন মাল্টা,ড্রাগন কিংবা বিটরুট পানিতে মিশিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা হয় এই জাদুকরী ডিটক্স ওয়াটার।যা সাধারণ পানির স্বাদ বাড়ায় এবং শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এটি মূলত শরীরকে হাইড্রেট রাখতে, হজমশক্তি বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
অনেকের ধারণা, সকালে খালি পেটে ডিটক্স ওয়াটার পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়, হজম প্রক্রিয়া বাড়ে এবং দ্রুত ওজন কমে। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, খালি পেটে কেবল ডিটক্স ওয়াটার পান করলেই শরীরের টক্সিন বিশেষভাবে বের হয়ে যায় বা চর্বি দ্রুত গলে, এমন প্রমাণ খুব বেশি নেই। আমাদের শরীরের বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের প্রধান দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই লিভার ও কিডনি পালন করে। তবে পানির চাহিদা পূরণ এবং কিছু উপকারিতার জন্য এ পানীয় পান করা যেতেই পারে।
ডিটক্স ওয়াটার কখন পান করা ভালো?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বা WHO ডিটক্স ওয়াটার পানের কোনো নির্দিষ্ট সময় বা নিয়ম নির্ধারণ করেনি, কারণ শরীর প্রাকৃতিকভাবেই লিভার ও কিডনির মাধ্যমে টক্সিন দূর করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিটক্স ওয়াটার সারাদিন অল্প অল্প করে বা সকালে খালি পেটে, কিংবা খাবারের আগে পান করা যেতে পারে।তবে সকালে ডিটক্স ওয়াটার পান করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের স্বাভাবিক অভ্যাস তৈরি হওয়া। অন্যদিকে খাবারের আগে পানি পান করলে পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়। যার ফলে খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতাও কমে। তবে এই সম্ভাব্য উপকার মূলত পানির কারণে ঘটে।
এমনকি ডিটক্স ওয়াটার তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান যেমন লেবু, মাল্টা, পুদিনা বা সাইট্রাস ফলে বিদ্যমান ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় পানির সাথে মিশে যায়। আদা, বিটরুটে বিদ্যমান আন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
ডিটক্স ওয়াটারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোনো কিছুই অতিরিক্ত গ্রহণ করা শরীরের জন্য ভালো নয়। সঠিক নিয়ম না মেনে এবং সঠিক মাত্রায় পান না করলে ডিটক্স ওয়াটারেও শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
১. প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিটক্স ওয়াটার পানে অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে সারা দিন ক্লান্তিভাব, বমিভাব, মাথায় যন্ত্রণা হতে থাকে। শরীরের কার্যক্ষমতাও কমে যায়।
২. ডিটক্স ওয়াটার সাময়িকভাবে ওজন ঝরাতে সাহায্য করলেও দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে বিপাক হার কমে যায়। ফলে শরীরে পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. যাঁদের কিডনির সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগ রয়েছে, তাঁদের এ ধরনের পানীয় পানের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে শরীর ‘ডিটক্স’ করার জন্য শুধু ডিটক্স ওয়াটারের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সূত্র : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)
What's Your Reaction?