কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

Jul 18, 2026 - 18:07
 0  10
কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা পোস্টে খবরটি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮৯ বছর বয়সে মারা গেলেন সোবার্স।তার মৃত্যুতে বিশ্ব ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার এবং সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত সোবার্স। বাঁহাতি অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিন—দুই ধরনের বোলিংয়েই পারদর্শী ছিলেন। সেই সঙ্গে ফিল্ডার ও ক্লোজ-ইন ক্যাচার হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট খেলেন সোবার্স। ৫৭.৭৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ৮ হাজার ৩২ রান এবং ৩৪.০৩ গড়ে নিয়েছেন ২৩৫টি উইকেট। সেঞ্চুরি ২৬টি, ফিফটি ৩০টি।

আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারকে যে পুরস্কার দেওয়া হয়, সেটি তাঁর নামেই করা হয়েছে—‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি’।

সোবার্স ১৯৬৪ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন এবং ২০০০ সালে উইজডেনের শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আইসিসি হল অব ফেম চালুর সময় তাঁকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


এক্সে করা পোস্টে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান হলো। আমাদের হৃদয়ে আপনি আছেন এবং চিরকাল থাকবেন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’

জন্মভূমি বার্বাডোজের হয়ে ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল, বাস্কেটবল ও গলফে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সোবার্স। তাঁর হাঁটার ভঙ্গি দেখেই মনে হতো ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটদের একজন।


ক্রিকেটে সোবার্সের প্রতিভা এমন স্তরের ছিল, তিনি যদি জীবনে একটি উইকেটও না পেতেন, তাহলেও ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবেই স্মরণীয় থাকতেন। যদি একটি রানও না করতেন, তাহলেও অন্যতম সেরা এবং নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের সবচেয়ে বহুমুখী বোলার হিসেবে ক্রিকেট–দুনিয়া তাঁকে মনে রাখত।

সোবার্স কেবল উইকেটকিপিং করেননি, তা ছাড়া ক্রিকেট মাঠে তিনি যা কিছু করেছেন, তার সবই এমন এক সহজাত ও সাবলীল দক্ষতায়—যা কেবল কিংবদন্তিদের পক্ষেই সম্ভব।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। এক বছর পর জ্যামাইকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক। সেই ম্যাচে ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ ও ২৬ রান করেন এবং ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৭৫ রানে ৪টি উইকেট নেন।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে টেস্টে সোবার্স মূলত বোলার হিসেবেই খেলেন। ২১াৃ বছর বয়সে দেখা পান প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির এবং সেই ইনিংসেই ভেঙে ফেলেন লেন হাটনের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত টেস্ট ইনিংসের বিশ্ব রেকর্ড। ১৯৫৮ সালে স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ইনিংসে এই কীর্তি গড়েন সোবার্স। ৩৬ বছর পর ১৯৯৪ সালে রেকর্ডটি ভাঙেন ব্রায়ান লারা। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সোবার্স মাঠে থেকে লারাকে অভিনন্দন জানান।

রেকর্ড গড়া সেই ইনিংসের এক দশক পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারা প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েন সোবার্স। নটিংহামশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বোলার ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে এই কীর্তি গড়েন।


ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বার্বাডোজ, নটিংহামশায়ার ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণিতে ৩৮৩ ম্যাচ খেলেন সোবার্স। ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮,৩১৪ রান করার পাশাপাশি ২৭.৭৪ গড়ে ১০৪৩টি উইকেট নেন।

সোবার্স ৯৫টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেললেও ওয়ানডে ক্রিকেট চালুর সময় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূর্য প্রায় অস্তমিত। ফলে এই সংস্করণে শুধু একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন। সেটা ১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তাঁকে নাইটহুড (স্যার) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।পরে উইজডেন তাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

খেলাধুলা ভিশন: বাংলা ভাষায় খেলাধুলা, ক্রীড়াবিজ্ঞান, ক্রীড়া নীতি, খেলোয়াড় উন্নয়ন এবং যুব নেতৃত্ব বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Sports Intelligence Platform হওয়া; যা ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড়, কোচ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলা, ক্রীড়াবিজ্ঞান, খেলোয়াড় উন্নয়ন, ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা এবং যুব নেতৃত্বকে তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে একটি সুস্থ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।