সরকার দেশকে সেরা নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত : প্রেসসচিব

Jan 1, 2026 - 22:36
 0  18
সরকার দেশকে সেরা নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত : প্রেসসচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে আশাবাদী অন্তর্বর্তী সরকার।’

আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারবে, যা দেশের অন্যতম সেরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, বরং এক অর্থে এটি গণভোটের অংশ।

যেখানে সংস্কার বিষয়ে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে। এ কারণে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হবে বলে সরকার আশা করছে।’
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।


প্রতিটি নির্বাচনী আসনে গড়ে আটজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন, যা প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
ভোটারদের সচেতনতা প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের ভোটাররা গণভোট ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। অপ্রাপ্তবয়স্ক বাদে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে তারা ভোট ও সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সাক্ষরতার হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৭৭ সালের প্রথম গণভোটের সময় ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ।

এ কারণে ভোটারদের সচেতনতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে মনে করছে সরকার।শফিকুল আলম জানান, ভোট হতে এখন পর্যন্ত ৪১ দিন সময় বাকি আছে। এ সময়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। ভোটের গাড়ি দেশের ৬৪ জেলা ও ৩০০ উপজেলায় ঘুরবে। এতে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ভোটারদের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে শতাংশ বলা সম্ভব না হলেও সরকার একটি সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।

প্রেসসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি করেছে। নেপালসহ কয়েকটি দেশ এ পোস্টাল ব্যালটব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার চায় এর মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরি হোক, যাতে ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশ তা অনুসরণ করতে পারে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow