শেখ হাসিনাকে ঢুকতে দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী
২০২৪-এর ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনা দীনেশ ত্রিবেদী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনফারেন্স’-এর একটি সেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ঐতিহাসিক ও পুরোনো বন্ধু হিসেবে তৎকালীন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের যা করা উচিত ছিল, তারা ঠিক সেটাই করেছে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনুমতি না দিলে কী ঘটতে পারত তা কারও জানা নেই।
শেখ হাসিনার ভারতে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভারতীয় দূত জানান, তাকে ভারতীয় কোনো সামরিক বাহিনী বা বিমানবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি; বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে করেই দেশ ছেড়ে ভারতে পৌঁছান।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াতো তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এটি পুরোপুরি একটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া, যা বর্তমানে নিজস্ব গতিতে চলছে। তিনি বলেন, বিষয়টির সঙ্গে আদালত ও সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো জড়িত থাকায় এ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা আগাম টাইমফ্রেম বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।
What's Your Reaction?