শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও ছড়াতে পারে এইচআইভি
এইচআইভি নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও অনেক ভুল ধারণা আছে। কেউ মনে করেন, শুধু শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ায়। আবার কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো, একসঙ্গে খাওয়া বা পাশে বসাকেও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। আসলে দুটিই ভুল ধারণা।
এইচআইভি নির্দিষ্ট কিছু শরীরের তরলের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রক্ত, বীর্য, যোনিরস ও বুকের দুধ। তবে হাত মেলানো, জড়িয়ে ধরা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া বা সাধারণভাবে পাশাপাশি থাকলে এই ভাইরাস ছড়ায় না।
শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও যেভাবে ছড়াতে পারে
এইচআইভি ছড়ানোর অন্যতম পরিচিত পথ অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক। তবে এটিই একমাত্র পথ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্য কারও শরীরে প্রবেশ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। যেমন, পরীক্ষা না করা রক্ত গ্রহণ বা দূষিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একই সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
ব্যবহৃত বা দূষিত সুচ-সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে রক্তের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। তাই ইনজেকশনের সরঞ্জাম সবসময় নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত হওয়া জরুরি।
অনিরাপদ চিকিৎসা সরঞ্জামেও ঝুঁকি আছে
জীবাণুমুক্ত না করা চিকিৎসা সরঞ্জাম বা শরীর ফুটো করার যন্ত্র ব্যবহার করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ট্যাটু বা পিয়ার্সিংয়ের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রও নিরাপদ হওয়া জরুরি।
মা থেকে শিশুর শরীরে
এইচআইভি আক্রান্ত মা থেকে গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের সময় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে শিশুর শরীরে ভাইরাস যেতে পারে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।
যেভাবে এইচআইভি ছড়ায় না
এইচআইভি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল ধারণার একটি হলো সাধারণ মেলামেশা থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। বাস্তবে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো, জড়িয়ে ধরা, একসঙ্গে বসা, খাবার বা পানি ভাগ করে খাওয়া থেকে এইচআইভি ছড়ায় না।
তাই এইচআইভি আক্রান্ত মানুষকে ভয় বা দূরে সরিয়ে না দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।
লক্ষণ থাকলেই কি এইচআইভি?
সবসময় নয়। সংক্রমণের পর কারও জ্বর, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, শরীরে র্যাশ বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার অনেকের কোনো লক্ষণই থাকে না।
তাই শুধু লক্ষণ দেখে এইচআইভি হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না। পরীক্ষাই হলো জানার নির্ভরযোগ্য উপায়।
চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
এইচআইভির এখনো পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সঠিক চিকিৎসা নিলে এইচআইভি নিয়ে একজন মানুষ দীর্ঘ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
এমনকি নিয়মিত চিকিৎসায় রক্তে ভাইরাসের মাত্রা শনাক্ত না হওয়ার পর্যায়ে নেমে এলে যৌন সঙ্গীর মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে না।
সচেতনতা হোক, ভয় নয়
এইচআইভি নিয়ে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সঠিক তথ্য জানা। শুধু শারীরিক সম্পর্ক নয়, সংক্রমিত রক্ত, একই সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার, অনিরাপদ চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মা থেকে শিশুর শরীরেও এই ভাইরাস যেতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ মেলামেশা থেকে এইচআইভি ছড়ায় না। তাই ভুল ধারণা নয়, সঠিক তথ্য ও সচেতনতাই পারে এইচআইভি নিয়ে ভয় এবং সামাজিক দূরত্ব কমাতে।
What's Your Reaction?