রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় ৪ আসামি কারাগারে

Sep 27, 2026 - 09:34
Sep 27, 2026 - 09:34
 0  2
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় ৪ আসামি কারাগারে
ছবি :সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের মামলায় গ্রেফতার চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।সংশ্লিষ্ট শাহআলী থানার প্রসিকিউশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।এর আগে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমান। 


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক প্রবেশ করে।


তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ। পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জনায় পুলিশ। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর এবং সেখানে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।


অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটে মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় দায়ের করা এজাহারে মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকার থেকে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া জমিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে আটকে রাখে এবং এরপর বিভিন্ন স্থাপনা ও কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়।প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলা ও লুটপাটে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।