যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই’, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পর পেজেশকিয়ান
পূর্ববর্তী আলোচনার পরও পুনরায় সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ঘটায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে তেহরান আর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে এর মধ্যেও চলমান যুদ্ধের অবসানে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ট্রাম্প।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মাসুদ পেজেশকিয়ান সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের সঙ্গে ঠিক কীসের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, তাও অনিশ্চিত।
জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এই পরিকল্পনার আওতায় ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, জব্দ করা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করতে হবে এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে কার্যকর যুদ্ধবিরতি মানতে হবে। এর বিপরীতে ইরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিল, ফলে জলপথটি বন্ধ করা তেহরানের জন্য ছিল একটি স্বাভাবিক আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব এবং আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি অবিলম্বে খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
What's Your Reaction?