মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা করায় দম্পতির ৩ বছরের কারাদণ্ড

Oct 8, 2026 - 14:48
 0  6
মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলা করায় দম্পতির ৩ বছরের কারাদণ্ড
ছবি :সংগৃহীত

ফরিদপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ১২ জনকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টা মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার বাদী ও তার স্বামীকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থাকা একমাত্র আসামিকেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা দেন।


দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের টানচর ওয়াজ হাওলাদারের ডাঙ্গী গ্রামের রিনা আক্তার (৩৭) ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী (৪৪)। মাসুদ ওই মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিনা আক্তার ঘরের বাইরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হলে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এরপর ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে স্বামী মাসুদ বেপারী ও ননদের স্বামী শাহাবুদ্দিন বেপারীর ওপর হামলার অভিযোগও তোলা হয়। এসব ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন রিনা।

 
আদালতের নির্দেশে সদরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম তদন্তের পর ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর প্রতিবেদন দেন। এতে মামলার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালত মামলাটি আমলে নেন। অভিযোগ গঠনসহ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন বাদী রিনা ও তার স্বামী এবং মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিপক্ষের আইনজীবী বশীর আহমদ চৌধুরী তাদের জেরা করেন। দীর্ঘ জেরায় বাদী ও তার স্বামীর বক্তব্যে অসংগতি ও অসংলগ্নতা উঠে আসে। সাক্ষ্য ও জেরায় পাওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে ঘোষণা করেন।


এ মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে হামলার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মধ্যে ১১ জনকে আদালত আগেই খালাস দেন। গতকাল বুধবার ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থাকা একমাত্র আসামিকেও আদালত অব্যাহতি দেন। পরে মামলার বাদি রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি আদালতের সামনে আসে। সাক্ষ্য ও জেরায় পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত তাদের প্রত্যেককে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে আসামিপক্ষের আইনজীবী বশীর আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ জেরায় বাদী ও তার স্বামীর বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। আদালত সাক্ষ্য-জেরা পর্যালোচনা করে মামলাটি মিথ্যা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মিথ্যা মামলা করার দায়ে বাদী ও তার স্বামীকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার প্রবণতা রোধে আদালতের এ দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ন্যাশনাল ভিশন: বাংলাদেশের জাতীয় জনজীবন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও জ্ঞানকেন্দ্র হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় ঘটনাপ্রবাহের প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: রাজধানী, মন্ত্রণালয়, সংসদ, আদালত, নির্বাচন, জনসেবা এবং নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি দ্রুত, নির্ভুল, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।