ভুয়া এসএমএস বা লিংক চিনবেন যেভাবে

Oct 11, 2026 - 14:37
Oct 11, 2026 - 14:37
 0  1
ভুয়া এসএমএস বা লিংক চিনবেন যেভাবে

মোবাইল ফোনে প্রতিদিন নানা ধরনের বার্তা আসে।কখনো ব্যাংক বা আর্থিক সেবার নামে, কখনো পুরস্কার জেতার খবর, আবার কখনো জরুরি অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের অনুরোধ। এসব বার্তার কিছু সত্যিকারের হলেও কিছু বার্তা তৈরি করা হয় মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে। একটি সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য দিলে ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা আর্থিক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বার্তার ভাষা, প্রেরকের পরিচয় এবং লিংকের ঠিকানা যাচাই করা জরুরি।

অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া বা ভয় দেখানো বার্তা

ভুয়া বার্তায় প্রায়ই বলা হয়, এখনই ব্যবস্থা না নিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, টাকা আটকে যাবে অথবা জরুরি সুবিধা হারাতে হবে। আবার কখনো অল্প সময়ের মধ্যে পুরস্কার গ্রহণ বা ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করতে বলা হয়। এই তাড়াহুড়ার উদ্দেশ্য হতে পারে ব্যবহারকারীকে চিন্তা করার সময় না দিয়ে দ্রুত লিংকে প্রবেশ করানো।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের ভোক্তা-পরামর্শ বিভাগ বলছে, প্রতারকেরা বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে। বিনা মূল্যে পুরস্কার, উপহার, ছাড় বা বিশেষ সুবিধার প্রলোভনও প্রতারণার কৌশল হতে পারে। তাই অপ্রত্যাশিত বার্তা এলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে আগে যাচাই করতে হবে।

লিংকের ঠিকানা ভালোভাবে দেখুন

সন্দেহজনক বার্তায় থাকা লিংক দেখতে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের মতো হলেও সেটি আসল নাও হতে পারে। ওয়েবসাইটের নামের বানান বদলে দেওয়া, অতিরিক্ত শব্দ যোগ করা বা অস্বাভাবিক ঠিকানা ব্যবহার করা হতে পারে। লিংক ছোট করে দেখানো হলেও তার গন্তব্য কোথায়, তা নিশ্চিত না হয়ে প্রবেশ করা উচিত নয়।

তবে শুধু বানান দেখে সব ভুয়া লিংক শনাক্ত করা সম্ভব নয়। কিছু প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট দেখতে আসল ওয়েবসাইটের মতোই হতে পারে। তাই বার্তায় দেওয়া লিংকে প্রবেশ না করে নিজে থেকে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট বা অ্যাপ খুলে তথ্য যাচাই করা নিরাপদ পদ্ধতি।

পাসওয়ার্ড, পিন বা একবার ব্যবহারযোগ্য সংকেত দেবেন না

কোনো বার্তায় পাসওয়ার্ড, আর্থিক অ্যাকাউন্টের পিন, একবার ব্যবহারযোগ্য গোপন সংকেত বা অন্য নিরাপত্তাতথ্য চাওয়া হলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে লিংকে প্রবেশের পর এসব তথ্য দিতে বলা হলে তা যাচাই ছাড়া দেওয়া উচিত নয়। এমন তথ্য অন্যের হাতে গেলে অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ বা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একইভাবে, সন্দেহজনক বার্তার সঙ্গে আসা ফাইল ডাউনলোড করা বা অচেনা অ্যাপ ইনস্টল করাও ঝুঁকিপূর্ণ। ফোন বা কম্পিউটারে নিরাপত্তা হালনাগাদ রাখা এবং বিশ্বস্ত উৎস ছাড়া অ্যাপ ইনস্টল না করা গুরুত্বপূর্ণ।

বার্তা সত্যি কি না যাচাই করবেন যেভাবে

ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত কোম্পানির নামে বার্তা এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজন হলে নিজে থেকে খুঁজে নেওয়া আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নম্বরে ফোন করুন। সন্দেহজনক বার্তায় দেওয়া ফোন নম্বর বা লিংক ব্যবহার করে যাচাই করবেন না, কারণ সেগুলোও প্রতারকের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

বার্তাটি ভুয়া বলে মনে হলে সেটির লিংকে প্রবেশ না করে মুছে ফেলা বা স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণা হলে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ব্যবস্থায় জানানোও উপকারী।

ভুল করে লিংকে প্রবেশ করলে কী করবেন

শুধু লিংকে প্রবেশ করেছেন বলে সব সময় তথ্য চুরি হয়ে গেছে, এমন নয়। তবে সেখানে পাসওয়ার্ড, পিন বা আর্থিক তথ্য দিয়ে থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিষ্কার ও নিরাপদ যন্ত্র থেকে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন, একই পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও ব্যবহার করা হলে সেগুলোও বদলান এবং সম্ভব হলে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করুন।

আর্থিক তথ্য দিয়ে থাকলে বা অননুমোদিত লেনদেন দেখতে পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতাকে জানান। সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করে থাকলে সেটি সরিয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা করুন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে প্রয়োজনমতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।

ভুয়া বার্তা শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো—অচেনা বার্তায় তাড়াহুড়া না করা, লিংকে প্রবেশের আগে যাচাই করা এবং গোপন তথ্য কাউকে না দেওয়া। কোনো বার্তা যত জরুরি বা আকর্ষণীয়ই মনে হোক, সেটি সত্যি কি না নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ফিচার Vision: বাংলা ভাষায় গভীর অনুসন্ধান, দীর্ঘ আকারের সাংবাদিকতা, মানবিক গল্প এবং বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য Narrative Journalism Platform হওয়া; যা সময়, সমাজ এবং মানুষের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: সমসাময়িক ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং পরিবর্তনকে গভীর গবেষণা, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার, তথ্য, ইতিহাস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করা; যাতে পাঠক কেবল ঘটনা জানতে না পারেন, বরং সেই ঘটনার মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে পারেন।