ভারতের টাটার সঙ্গে বড় অংশীদারত্বে নেক্সপেরিয়া
ভারতে সেমিকন্ডাক্টর বা কম্পিউটার চিপ উৎপাদনে ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে বড় ধরনের অংশীদারত্ব করেছে ডাচ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেক্সপেরিয়া। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই প্রতিষ্ঠান এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয়।
চুক্তির আওতায় ভারতে চিপ তৈরি, পরীক্ষা, প্যাকেজিং ও সংযোজনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিপ প্রযুক্তি উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করবে নেক্সপেরিয়া ও টাটা ইলেকট্রনিকস। তবে চুক্তিটির আর্থিক মূল্য বা অন্যান্য আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ধোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিকস যে প্রায় ১১০০ কোটি ডলারের সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণ করছে, সেখানে নেক্সপেরিয়ার বিভিন্ন ধরনের বিদ্যুৎ-নিয়ন্ত্রণকারী চিপ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আসামের জাগিরাওয়ে টাটা ইলেকট্রনিকসের চিপ প্যাকেজিং কারখানায় চিপ পরীক্ষা ও সংযোজনের কাজেও সহযোগিতা করবে দুই প্রতিষ্ঠান।
টাটা ইলেকট্রনিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রণধীর ঠাকুর বলেন, ভারতে বিশ্বমানের ও সমন্বিত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এই অংশীদারত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নেক্সপেরিয়া তুলনামূলকভাবে সাধারণ ধরনের বিদ্যুৎ-নিয়ন্ত্রণকারী চিপের গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা। এসব চিপ গাড়ি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
চীনা মূল প্রতিষ্ঠান উইংটেকের সঙ্গে নেক্সপেরিয়ার বিরোধের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে এই নতুন অংশীদারত্বের ঘোষণা এলো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেক্সপেরিয়ার ওপর হস্তক্ষেপ করে নেদারল্যান্ডস সরকার। তাদের বক্তব্য ছিল, প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যাতে চীনে সরিয়ে নেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এর প্রতিক্রিয়ায় চীন নেক্সপেরিয়ার তৈরি চিপ রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়। চীনের ডংগুয়ান শহরে নেক্সপেরিয়ার চিপের বড় একটি অংশ প্যাকেজ করা হতো। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থায় চিপের সংকট দেখা দেয়।
পরে নেদারল্যান্ডস ও চীন—উভয় দেশের সরকারই তাদের নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে। এতে চিপ সরবরাহের সংকট কিছুটা কমে আসে। তবে নেক্সপেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভাজন পুরোপুরি কাটেনি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কার্যত চীন ও ইউরোপকেন্দ্রিক দুটি অংশে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, একটি ডাচ আদালত উইংটেকের কাছ থেকে নেক্সপেরিয়ার নিয়ন্ত্রণও সরিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই নেক্সপেরিয়ার বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড টাটা ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে ভারতের সঙ্গে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নেক্সপেরিয়ার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
What's Your Reaction?