নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুম কী যথেষ্ট?

Sep 27, 2026 - 15:02
Sep 27, 2026 - 15:06
 0  5
নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুম কী যথেষ্ট?

ঘুম শরীরকে শক্তি জোগায়।পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।এই সময়েই মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে, শরীর তার কলা মেরামত করে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তন্ত্র পুনরুদ্ধার লাভ করে। তবে অনেকে নিয়মিত মাত্র ছয় ঘণ্টা বা তারচেয়েও কম ঘুমিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। তাহলে, ৬ ঘণ্টার ঘুম কি যথেষ্ট?


বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে ৬ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট নয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়, যদিও আদর্শ ঘুমের পরিমাণ বয়সভেদে ভিন্ন হয়। প্রতিদিন সকালে ছয় এবং সাত বা আট ঘণ্টার মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি মনে নাও হতে পারে, কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে ধারাবাহিকভাবে কম ঘুমালে তা ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বয়স অনুযায়ী আপনার কতটা ঘুম প্রয়োজন?

জীবনে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হয়। সিডিসি (CDC)-এর মতে, নবজাতকদের জন্য প্রস্তাবিত ঘুমের সময়কাল ১৪-১৭ ঘণ্টা থেকে শুরু করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বয়স অনুযায়ী ঘুমের সময়


* ০-৩ মাস বয়সী নবজাতকের ১৪-১৭ ঘণ্টা

* ৪-১২ মাস বয়সী শিশুর ১২-১৬ ঘণ্টা

* ৩১-২ বছর বয়সী শিশুর ১১-১৪ ঘণ্টা

*১-২ বছর বয়সী শিশুর ১১-১৪ ঘণ্টা

*  ৩-৫ বছর বয়সী শিশুর ১০-১৩ ঘণ্টা

* ৬-১২ বছর বয়সী শিশুর ৯-১২ ঘণ্টা

* ১৩-১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা

* ১৮-৬৪ বছর বয়সীদের কমপক্ষে ৭ ঘণ্টা 

* ৬৫+ বছর বয়সীদের ৭-৮ ঘণ্টা 


দৈনিক ৬ ঘণ্টা ঘুম বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সঠিক নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের জন্য সাধারণত প্রস্তাবিত সময়ের চেয়ে কম, যদিও অনেকে মনে করেন যে এই সময়েও তারা ঠিকঠাক কাজ করতে পারেন।

কেন ৬ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট বলে মনে হতে পারে?


এর একটি কারণ হলো অভিযোজন। যিনি প্রতি রাতে ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তিনি হয়তো ক্লান্তি ততটা তীব্রভাবে অনুভব করেন না। এর মানে এই নয় যে, শরীরের আরও ঘুমের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।

কিছু মানুষের মধ্যে এমন একটি জিনগত বৈচিত্র্য থাকে যা তাদের কম ঘুমেও মোটামুটি ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, যাদের প্রায়শই ‘শর্ট স্লিপার’ বা স্বল্প ঘুমন্ত ব্যক্তি বলা হয়, কিন্তু এটি বেশ বিরল। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমালে তাদের প্রাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনীয় ঘুমের পরিমাণের মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

‘স্লিপ অ্যান্ড ব্রেদিং’-এর একটি পর্যালোচনায় ৬৯টি মেটা-অ্যানালাইসিস পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, ঘুমের অনুপযুক্ত সময়কাল বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে ছিল হৃদরোগ, স্মৃতিশক্তির অবক্ষয়, বিষণ্ণতা, মেটাবলিক সিনড্রোম এবং স্ট্রোক। গবেষকরা আরও দেখেছেন যে, স্বল্প ঘুমন্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, প্রতি এক ঘণ্টা ঘুম কমার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত পরিণতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

প্রতি রাতে মাত্র ৬ ঘণ্টা ঘুমালে কী হয়?

এর প্রভাবগুলো হয়তো সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কম ঘুম বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে সম্পর্কিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-

 * রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস

* সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বলতা

* মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস

* ওজন বাড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি

* মেজাজের পরিবর্তন

* উচ্চ রক্তচাপ

* বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি

যখন ৬ ঘণ্টা ঘুম একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন ধীরে ধীরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি, ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি (কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনকে প্রভাবিত করে), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।