তিন কনসার্ট স্থগিত, হামিন আহমেদের প্রশ্ন: বাংলাদেশি শিল্পীরা পাকিস্তানে কবে গেয়েছেন?
ঢাকায় পাকিস্তানি শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরপর তিনটি কনসার্ট স্থগিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পারস্পরিকতা এবং কনসার্ট আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাইলসের সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানতে চান, এখন পর্যন্ত বা গত পাঁচ বছরে কতজন বাংলাদেশি শিল্পী বা ব্যান্ড পাকিস্তানে গিয়ে পারফর্ম করেছেন। একই প্রশ্ন ভারতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামিন আহমেদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় একতরফা হলে তা কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তিনি লিখেছেন, সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ‘পারস্পরিক’ হওয়া প্রয়োজন।
তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি। বরং গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিল্পীদের পাকিস্তানে পারফর্ম করার সংখ্যা জানতে চেয়েছেন।
যে তিনটি কনসার্ট স্থগিত
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। এতে পাকিস্তানের আলী আজমত, মুস্তাফা জাহিদ ও ব্যান্ড জালের পাশাপাশি বাংলাদেশের জেমস, নেমেসিস ও লেভেল ফাইভের পারফর্ম করার কথা ছিল।
নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে।
একই দিনে ‘সেন্স ইট উইথ মুর্তজা কিজিলবাশ’ নামে আরেকটি কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। সেখানে পাকিস্তানের মুর্তজা কিজিলবাশের সঙ্গে বাংলাদেশের হাবিব ওয়াহিদের পারফর্ম করার কথা ছিল। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কারণে সেটিও স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশের কনসার্ট। ‘ওয়েভ ফেস্ট: এনজয় দ্য ফুল মুন’ নামের এই আয়োজনে কাভিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদলের পারফর্ম করার কথা ছিল।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইমওয়েভ কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ১০ মাস আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানটি একবার স্থগিত হয়েছিল।
অনুমোদন নিয়ে হামিনের প্রশ্ন
শুধু সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয় নয়, কনসার্ট আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হামিন আহমেদ।
তাঁর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন পাওয়ার আগে কীভাবে আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকিট বিক্রি শুরু করার সুযোগ পায়। একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে কেন, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও অন্যান্য অনুমোদনের বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক কনসার্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া কখন সম্পন্ন হবে এবং টিকিট বিক্রির আগে সেটি নিশ্চিত করা উচিত কি না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রশ্ন
বাংলাদেশে পাকিস্তানি শিল্পীদের কনসার্ট আয়োজন নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগ্রহ দেখা গেলেও, বাংলাদেশি শিল্পীদের পাকিস্তানে পারফর্ম করার সুযোগ কতটা রয়েছে—হামিন আহমেদের প্রশ্নটি মূলত সেই পারস্পরিকতার বিষয়টিই সামনে এনেছে।
তবে গত পাঁচ বছরে দুই দেশের কতজন শিল্পী কোথায় পারফর্ম করেছেন, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান হামিন তাঁর পোস্টে দেননি।
এদিকে স্থগিত হওয়া তিন কনসার্টের আয়োজকেরা নতুন তারিখ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। ফলে সামনে অনুষ্ঠানগুলো আবার কবে হবে এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
What's Your Reaction?