ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ক্লাস-পরীক্ষা ,তিতুমীরের কলেজ
সরকারি তিতুমীর কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের জন্য বাজেট চেয়ে আবেদন করার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরই মধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়া, ফাটল ধরা পিলার, ভাঙাচোরা দরজা-জানালা ও অচল টয়লেট নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
২০২৫ সালের মে মাসে পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের বেহাল অবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ভবনটি সংস্কারের জন্য বাজেটের আবেদন করা হয়েছে এবং বাজেট অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। তবে এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
কিছুদিন আগে ভবনের নিচ তলায় রসায়ন বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের চুন ও পলেস্তারা খসে পড়ায় ওই কক্ষে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভবনের বাইরের দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবনে ক্লাস স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা সামি আহমেদ বলেন, তিতুমীর কলেজের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের অবকাঠামো একদম বাজে। নিচতলার ক্লাসরুমে সিলিং থেকে চুন-পলেস্তারা খসে পড়ায় কেমিস্ট্রি বিভাগের ক্লাস বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় তলার সিলিং থেকেও পলেস্তারা খসে পড়েছে। তৃতীয় তলার একটি পিলার ফেটে গিয়ে রড দেখা যাচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে ক্লাস করি। সম্প্রতি দেশে কয়েকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া আলম বলেন, আমাদের বিজ্ঞান ভবন অনেক পুরোনো হওয়ায় অবকাঠামোগত অবনতি হয়েছে। অনেক নির্মাণ ত্রুটিও চোখে পড়ে। বর্তমানে ভূমিকম্পের আশঙ্কার মধ্যেও এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও নেই।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের কমনরুম ও ওয়াশরুমের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে নিচতলার স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ক্লাস করতে হয়। নতুন বিজ্ঞান ভবনে ক্লাস স্থানান্তরের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি নেই।
এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ খসরু বলেন, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে রিপোর্ট দিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া বা সাড়া দেওয়া হয়নি। এখানে আমাদের আর কোনো কাজ নেই। যা করার, প্রধান কার্যালয় থেকেই করবে।
What's Your Reaction?