কক্সবাজারের শুঁটকি শিল্পে নতুন সম্ভাবনা, বাড়ছে দেশ-বিদেশে চাহিদা
বাংলাদেশের উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত কক্সবাজারের শুঁটকি শিল্প। প্রাকৃতিক পরিবেশ, দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল এবং প্রচুর সামুদ্রিক মাছের প্রাপ্যতার কারণে কক্সবাজার দেশের শুঁটকি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া এলাকায় বৃহৎ পরিসরে সামুদ্রিক মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশেও বাজারজাত করা হয়।
শুঁটকি শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো তাজা সামুদ্রিক মাছ। লইট্টা, ছুরি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, কোরাল, ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুঁটকি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। প্রথমে মাছ বাছাই করে পরিষ্কার করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ কেটে লবণ মাখানো হয় অথবা সরাসরি বাঁশের মাচায় বা বিশেষ শুকানোর স্থানে রোদে শুকানো হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাছের আর্দ্রতা কমে গেলে তা শুঁটকিতে পরিণত হয়। পরে মান অনুযায়ী বাছাই করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্যাকেটজাত করা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুঁটকি শুধু বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিযোগ্য পণ্যও। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন করা গেলে এ শিল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ আরও বাড়বে।এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার জেলে, মাছ ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, প্যাকেজিং কর্মী এবং রপ্তানিকারক জড়িত রয়েছেন। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের বহু পরিবার শুঁটকি উৎপাদন ও বিপণনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই শিল্প স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তবে অনিয়মিত আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড়, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় শুঁটকি উৎপাদনের অভিযোগ এ শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে মান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক শুকানোর প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদন ব্যবস্থা, সহজ শর্তে ঋণ, উন্নত প্যাকেজিং এবং নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে কক্সবাজারের শুঁটকি শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজারের শুঁটকি শিল্প ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সামুদ্রিক শিল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে আরও সুদৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলবে।
What's Your Reaction?