অস্ট্রেলিয়াকে পরামর্শ দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা

Aug 19, 2026 - 20:07
 0  12
অস্ট্রেলিয়াকে পরামর্শ দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা

ডারউইনে বাংলাদেশ যেন শুধু একটা টেস্ট জেতেনি, অস্ট্রেলিয়ার সামনে একটা আয়নাও তুলে ধরেছে। সেখানে তারা চাইলে নিজেদের বর্তমান দেখতে পারে। চাইলে পেতে পারে ভবিষ্যতের আভাসও। যে আভাসে আছে সতর্কতা।

অস্ট্রেলিয়া আয়না দেখছে নিশ্চিতভাবেই। তবে সেখানে যা দেখা যাচ্ছে, সেটা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। অস্ট্রেলিয়ার মূল একাদশের পেছনে থাকা রিজার্ভ বেঞ্চের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে এই দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দিয়েছেন একটা পরামর্শও।


মারারা ওভালে বাংলাদেশ জিতেছে ৯ উইকেটে, সেটিও চতুর্থ দিনে। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও দারুণ ব্যাটিং করেছেন তানজিদ-নাজমুল-মিরাজরা। ঘরের মাঠে, পূর্ণ শক্তির আক্রমণ নিয়েও বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে লেগেছে অসহায়, যা বিশ্ব ক্রিকেটেই একরকম অচেনা দৃশ্য। অস্ট্রেলিয়ায় তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও তাই বাংলাদেশের দারুণ জয় আর অস্ট্রেলিয়ার এমন হার নিয়ে আলোচনা কম নয়। সেই আলোচনাতে যোগ দিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করেছেন ব্রায়ান লারা।

লারার এই সতর্কবার্তার পেছনে আছে ইতিহাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই কিংবদন্তি জানেন, পতন কেমন দেখতে। তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে, অনুভব করেছেন নিজের ভেতরে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান দল দেখে তাঁর মনে পড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরোনো সেই দিনগুলোর কথা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখনো বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে দাপুটে দল। কিন্তু ভেতরে–ভেতরে একটা বিশাল পরিবর্তনের সময় চলে এসেছিল। ১৯৯১ সালের ইংল্যান্ড সফরের পর হঠাৎ করেই একে একে বিদায় নেন ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ, জেফ ডুজন। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়েন ম্যালকম মার্শালও। একঝটকায় বদলে যায় সব।

মাত্র ২২ বছর বয়সে লারাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে হয় নতুন ব্যাটিং লাইনআপ। তিনি লড়েছেন, রান করেছেন। কিন্তু একা একজনের কাঁধে ভর করে তো পুরো সাম্রাজ্য টেকে না। রিচি রিচার্ডসন, কার্ল হুপার, জিমি অ্যাডামস এই নামগুলো ছিল। কিন্তু ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলে ওই ধাক্কা থেকে আর পুরোপুরি ফিরতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন দশক পেরিয়ে গেছে। টেস্ট ক্রিকেটে তাদের আধিপত্যের সেই দিনগুলো এখন ইতিহাসের বইয়ে।


অস্ট্রেলিয়ার বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন। তাদের কাঠামো শক্তিশালী। ঘরোয়া ক্রিকেট সমৃদ্ধ, প্রতিভার অভাব নেই। তবু আশঙ্কার জায়গাটা একই। উসমান খাজা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন। কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউড, লায়ন, স্টিভ স্মিথদের ক্যারিয়ার সায়াহ্ন চলে এসেছে। এই নামগুলো যদি একসঙ্গে মিলিয়ে যায়, তখন দায়িত্বটা গিয়ে পড়বে যাঁদের ওপর, তাঁরা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত কি না, লারা তুলেছেন সেই প্রশ্ন।

কোড স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই লারা বলেন, ‘এক-দুজন খেলোয়াড়ের অবসর সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই, যখন অনেকেই একসঙ্গে চলে যায়। ধাপে ধাপে বদল হওয়াই ভালো।’

অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে লারার উদ্বেগ আরও বাড়ছে। বিকল্প ব্যাটসম্যানদের অনেকের গড় রান ৩০-এর ঘরে। সংখ্যাটা ছোট নয়, কিন্তু ভরসারও নয়। লারা তাই বলেন, ‘যদি একসঙ্গে চার-পাঁচজন মূল ক্রিকেটার বিদায় নেয়, এই রিজার্ভ দল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।’

মোটকথা, অস্ট্রেলিয়া দলে পরিবর্তনটা একঝটকায় না করে ধাপে ধাপে করার পরামর্শ লারার। অস্ট্রেলিয়া সেটা কতটা সফলভাবে করতে পারে, সেটা দেখতে অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

খেলাধুলা ভিশন: বাংলা ভাষায় খেলাধুলা, ক্রীড়াবিজ্ঞান, ক্রীড়া নীতি, খেলোয়াড় উন্নয়ন এবং যুব নেতৃত্ব বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Sports Intelligence Platform হওয়া; যা ক্রীড়াপ্রেমী, খেলোয়াড়, কোচ, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খেলাধুলা, ক্রীড়াবিজ্ঞান, খেলোয়াড় উন্নয়ন, ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা এবং যুব নেতৃত্বকে তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা, গবেষণা, বিশ্লেষণ এবং অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে একটি সুস্থ, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।