অনলাইন বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভনে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় দুই চীনা নাগরিকসহ চারজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই এসআই মহিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রুহুল আমিন বিশ্বাস (২৬), শেখ সানজিদা মনসুর সিথি (২৩), চীনা নাগরিক চ্যান লং জি (৩৬) ও ওয়াং শিওয়েই (৩৫)। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. আবু ছাদেকের হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভজনক ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তাকে দুটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্যাকেজ এবং ব্লক ট্রেড শেয়ারে বিনিয়োগের বিষয়ে বুঝিয়ে বলা হয়। বিনিয়োগের বিপরীতে প্রতিদিন আকর্ষণীয় মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাদী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে আসামিদের দেওয়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠান।
বিভিন্ন সময়ে মোট ১১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাকে ১০ লাখ টাকা লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ৫ মে ২০২৬ সালে থানায় মামলা করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে ফাতিন মাহদী নামের এক ব্যক্তির সিটি ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়।
ওই হিসাবধারীকে জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন বিশ্বাসের সঙ্গে তার পরিচয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি উঠে আসে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, রুহুল আমিন ও শেখ সানজিদা মনসুর সিথি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ই-মেইলের প্রবেশাধিকার সংগ্রহ করে তা চীনা নাগরিক চ্যান লং জি ও ওয়াং শিওয়েইয়ের কাছে দিতেন। এসব হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে একটি হিসাবসহ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ২ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা অন্যান্য অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ওয়ারী) উপপরিদর্শক মৃত্যুঞ্জয় পণ্ডিত মিঠুন রিমান্ড আবেদনে বলেন, প্রতারণায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর পাসওয়ার্ড উদ্ধার, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ, অর্থের প্রবাহ শনাক্ত, আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত চার আসামির তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন, আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি চীনা পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।